WHAT'S NEW?
Loading...

কিংবদন্তি পেলের জীবনাবসান ও অন্যান্য

                                                                
                


প্রিয় ক্রিকেট ডটকমঃ সম্প্রতি ফুটবল কিংবদন্তি পেলে মৃত্যুবরণ করেছেন।মৃত্যুকালে এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তির বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।পেলের মৃত্যুর ফলে ক্রীড়াবিশ্বের এক লিজেন্ডের জীবনাবসান হলো। উল্লেখ্য জনপ্রিয়তা বিবেচনায় পেলেকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রীড়াব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়।প্রয়াত এই ফুটবল কিংবদন্তির বিভিন্ন অজানা রেকর্ড এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।


পেলের বিভিন্ন অজানা রেকর্ড


ফুটবল তথা ক্রীড়াজগতের সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পেলেকে গণ্য করা হয়।এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি তিনটি ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের বিরল রেকর্ডের অধিকারী। এছাড়া আরও অসংখ্য রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন এই ফুটবলার। পেলের বিভিন্ন অজানা রেকর্ড এখানে দেখে নিন।


পেলের পুরো নাম 


ক্রীড়েবিশ্বে পেলে নামে পরিচিত হলেও এই কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের  পুরো নাম  'এদসোঁ আরাঁচ দু লাসিমেতুঁ '।




সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপ জয় 


ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি পেলে সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপ ফুটবল শিরোপা জয় করেন যা আর কারো নেই। উল্লেখ্য পেলে ১৯৫৮ সালে (১৭ বছর ২৪৯ দিন বয়সে)ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জয় করেন ।


তিনবার বিশ্বকাপ জয় 


পেলে ব্রাজিলের হয়ে তিনবার (১৯৫৮,১৯৬২ ও ১৯৭০) বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করেন যা আর কারো নেই।


সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপ গোল 


পেলের রেকর্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি রেকর্ড হচ্ছে সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপে গোল করা ফুটবলার ছিলেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার। উল্লেখ্য ১৯৫৮ সালের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ওয়েলসের বিপক্ষে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার (১৭ বছর ২৩৯ দিন বয়সে) হিসেবে গোল করেন।


বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ হ্যাটট্রিককারী 


পেলে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ হ্যাটট্রিককারী।১৯৫৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন এবং সেদিন তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর ২৪৪ দিন।


পেলের জন্য যুদ্ধবিরতি 


একবার (১৯৬৯ সালে) পেলের ক্লাবদল সান্তোস এফসি নাইজেরিয়ায় প্রীতিম্যাচ খেলতে গিয়েছিল এবং সেসময় নাইজেরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলছিল।কথিত আছে  পেলের দলের খেলার জন্য সেখানে বিবাদমান গ্ৰুপগুলো যুদ্ধবিরতি দিয়েছিল।


পেলে কখনো ইউরোপীয় ক্লাবে খেলেননি 


পেলে তিনবার বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার হলেও তিনি কখনো ইউরোপের কোন লিগে বা ক্লাবে খেলেননি যদিও তাকে রিয়াল মাদ্রিদ,এসি মিলানের মতো ক্লাব তাদের দলে ভেড়াতে চেয়েছিল।তবে এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি ১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্লাবের হয়ে লিগ ফুটবল খেলেছেন।


৫০ বছর বয়সে অধিনায়কত্ব 


পেলে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হলেও তিনি জাতীয় দলের হয়ে কখনো অধিনায়কত্ব করেননি।তাকে বহুবার ব্রাজিল জাতীয় দল ও বিভিন্ন ক্লাবের অধিনায়কত্ব করার অফার দেয়া হলেও তিনি কখনো রাজি হননি।তবে এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি ৫০ বছর বয়সে এক আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচে (১৯৯০সালে) ব্রাজিলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন যা পেলের প্রথমবার অধিনায়কত্ব করার রেকর্ড হিসেবে রয়ে গেছে।


দর্শকরা একবার পেলেকে অপহরণ করেছিল 


পেলে একবার সান্তোস এফসির হয়ে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে ম্যাচ খেলতে যান এবং ম্যাচের ৪৩ মিনিটে গোল করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি।খেলা শেষে  একদল দর্শক হঠাৎ মাঠে প্রবেশ করে এবং পেলেকে কাঁধে নিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়।পরে পেলেকে দর্শকদের হাত থেকে উদ্ধার করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল।


পেলে ভালো গোলরক্ষকও ছিলেন 


খেলোয়াড়ি জীবনে ফরোয়ার্ড হিসেবে সবচেয়ে সফল হলেও পেলে গোলরক্ষক হিসেবেও ভালো ছিলেন।পেলে ব্রাজিল জাতীয় দল ও সান্তোস এফসি  ক্লাবের বিকল্প গোলরক্ষক ছিলেন।সান্তোস এফসির হয়ে বহুবার তিনি গোলরক্ষকের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।


পেলে একসময় ব্রাজিলের ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন 


পেলে একসময় (১৯৯৫-১৯৯৮) ব্রাজিলের ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং সেসময়  ফুটবলারদের কল্যাণে কিছু চমৎকার আইন করেন যা প্রশংসিত হয়।এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন।


পেলের আত্মজীবনী গ্ৰন্থ 


সদ্যপ্রয়াত ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি পেলের আত্মজীবনী গ্ৰন্থের নাম 'পেলে:দি অটোবায়োগ্রাফি'।