WHAT'S NEW?
Loading...

সবধরণের ক্রিকেট থেকে ডিভিলিয়ার্সের অবসর

                                                                 




প্রিয় ক্রিকেট ডটকমঃ সম্প্রতি সবধরণের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ব্যাটার এবি ডিভিলিয়ার্স।২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও প্রথমশ্রেণীর ক্রিকেটে নিয়মিত ছিলেন এই ব্যাটিং লিজেন্ড। ডিভিলিয়ার্সের অবসরের মধ্যদিয়ে মাঠের ক্রিকেট থেকে এক কিংবদন্তির বিদায় সূচিত হলো।ডিভিলিয়ার্স শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় টিমের হয়ে সফল ছিলেন তা নয় বরং বিশ্বের সব ফ্রাঞ্চাইজি লিগেই তাঁর সরব উপস্থিতি ছিল।এই ব্যাটিং লিজেন্ডের অবসর জীবন সুন্দর হোক আমাদের সেটিই কামনা।



ডিভিলিয়ার্সের অবিশ্বাস্য গুণগুলো



এবি ডিভিলিয়ার্সকে শুধু জনপ্রিয় ব্যাটার বললে ভুল হবে বরং ক্রিকেট ব্যাটিংয়ের এক ইউনিক চরিত্র হিসেবে তাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। অসাধারণ টেকনিক,উইকেটের চারপাশে নিখুঁত শট খেলার দক্ষতা,উইকেটে দাঁড়িয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচকে সফলভাবে ফিনিশ করা ইত্যাদি গুণগুলো ডিভিলিয়ার্সের মধ্যে সবসময় দেখা গেছে।ডিভিলিয়ার্সের ইউনিক গুণগুলো এখানে তুলে ধরছি।



অসাধারণ টেকনিক



গত দুই/তিন দশকের ক্রিকেটে সবচেয়ে সেরা টেকনিকের ব্যাটারদের মধ্যে এবি ডিভিলিয়ার্স অন্যতম। এই ব্যাটার ক্লাসিক্যাল টেকনিকের সাথে নিজের ইনোভেটিভ টেকনিক দিয়ে সবসময় ক্রিকেটমাঠে এক আলোচিত চরিত্র ছিলেন।যেকোন উইকেটে মানিয়ে নেয়ার এক অবিশ্বাস্য টেকনিক তাঁর মধ্যে ছিল।হোক সেটি এশিয়ার ফ্ল্যাট উইকেট কিংবা অষ্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেট সবক্ষেত্রেই এবি ডিভিলিয়ার্স ব্যাট হাতে তাঁর অসাধারণ টেকনিকের চিহ্ন রেখেছেন। এবং এরকম সব্যসাচী ব্যাটার ক্রিকেটে আর খুব বেশি নেই। টেকনিক বিচার করলে ডিভিলিয়ার্সের সাথে শুধু বিরাট কোহলির তুলনা চলে।



নিখুঁত শট খেলার দক্ষতা


ডিভিলিয়ার্সের ইউনিক গুণগুলোর একটি হলো তাঁর নিখুঁত শট খেলার দক্ষতা।এতো চমৎকার ও পাওয়ারফুল স্ট্রোকমেকার ক্রিকেটে খুব বেশি নেই।জায়গায় দাঁড়িয়ে উইকেটের চারপাশে নিখুঁত শট খেলার এক অপূর্ব দক্ষতা ডিভিলিয়ার্সের ব্যাটিংয়ে দেখা যায়। বিশেষত চমৎকার ফিটনেস ও কবজির জোর এই ব্যাটারের মধ্যে সবসময় দেখা যায়। এগ্ৰেসিভ ব্যাটিংস্টাইলের সাথে  নিখুঁত শট খেলার দক্ষতা এই ব্যাটারের এক অনন্য গুণ হিসেবে স্বীকৃত।



সফল ফিনিশার



ক্রিকেটে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচকে সফলভাবে ফিনিশ করার এক অনন্য গুণ ডিভিলিয়ার্সের ব্যাটিংয়ের মধ্যে দেখা যায়। এরকম বহু উদাহরণ ওয়ানডে ক্রিকেটে রয়েছে যেখানে শুরুতে টপঅর্ডার ব্যর্থ হয়েছে এবং শুধু ডিভিলিয়ার্সের কারণে টিম চারশর বেশি রানও চেজ করতে সমর্থ হয়েছে। অনুরূপভাবে টেস্ট ও টিটুয়েন্টি ক্রিকেটেও ফিনিশার হিসেবে ডিভিয়ার্সের সফলতার অসংখ্য নজির রয়েছে। এক্ষেত্রে এবি ডিভিলিয়ার্স ফিনিশার হিসেবে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।




 ডিভিলিয়ার্সের ক্যারিয়ারচিএ


এবি ডিভিলিয়ার্স দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টেস্ট, ওয়ানডে ও টিটুয়েন্টি ক্রিকেট খেলেছেন। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার ডমেষ্টিক ক্রিকেট এবং আইপিএল,বিগব্যাশসহ বিশ্বের বিভিন্ন ফ্রাঞ্চাইজি লিগে ডিভিলিয়ার্স নিয়মিত খেলেছেন।এবি ডিভিলিয়ার্সের ক্যারিয়ারচিএ এখানে তুলে ধরছি।



টেস্ট ক্যারিয়ার



এবি ডিভিলিয়ার্স  ১১৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন যেখানে তাঁর মোট রানসংখ্যা ৮৭৬৫। টেস্ট ক্রিকেটে এই ব্যাটিং লিজেন্ডের ২২টি সেঞ্চুরি ও ৪৬টি ফিফটি রয়েছে।


ওয়ানডে ক্যারিয়ার



ওয়ানডে ক্রিকেটে ডিভিলিয়ার্স ২২৮টি ম্যাচ খেলেছেন যেখানে তাঁর মোট সংগ্রহ ৯৫৭৭ রান। এছাড়া ওয়ানডে ক্রিকেটে এই কিংবদন্তি ব্যাটার ২৫টি সেঞ্চুরি ও ৫৩টি ফিফটি করেছেন।


টিটুয়েন্টি ক্যারিয়ার



আন্তর্জাতিক টিটুয়েন্টিতে এবি ডিভিলিয়ার্স ৭৮ ম্যাচ খেলে ১০ফিফটিসহ মোট ১৬৭২ রান করেছেন।


ফাষ্টক্লাশ ক্যারিয়ার



ফাষ্টক্লাশ ক্রিকেটে এবি ডিভিলিয়ার্সের যথারীতি দারুণ সাফল্য রয়েছে।এই তারকা ব্যাটার নর্দানস,টাইটানস,মিডলসেকস,রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, ব্রিসবেন হিটস,বার্বাডোস ট্রাইডেন্টসের মত বিখ্যাত  ক্লাব ও ফ্রাঞ্চাইজির হয়ে ফাষ্টক্লাশ ক্রিকেট খেলেছেন।


বিশেষ স্বীকৃতি


এবি ডিভিলিয়ার্সের ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার ও স্বীকৃতি রয়েছে। তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা স্বীকৃতি হচ্ছে তিনি তিনবার আইসিসি ওডিআই প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার (২০১০,২০১৪ ও ২০১৫) নির্বাচিত হন।



ডিভিলিয়ার্সের সেরা পাঁচ ইনিংস


ডিভিলিয়ার্সের ক্যারিয়ারের সেরা পাঁচ ইনিংসের পরিচয় এখানে তুলে ধরছি।


ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৪৯ (২০১৫)


২০১৫ সালে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জোহানেসবার্গে ডিভিলিয়ার্স ১৪৯ রানের এক টনের্ডো ইনিংস খেলেন যেখানে ১৬টি ছক্কা ও ৯টি চারের মার ছিল।


ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৬২ (সিডনি)



২০১৫ সালে সিডনিতে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ডিভিলিয়ার্স ৬২ বলে ১৬২ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন।সেই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪০৮ রানের বিশাল টোটাল গড়তে সক্ষম হয়।



রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ১৩৩(২০১৫)



২০১৫ সালে আইপিএলে ডিভিলিয়ার্স রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ৫৯ বলে ১৩৩ রানের দারুণ এক ইনিংস উপহার দেন।



পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৭৮ রান(২০১০)



ডিভিলিয়ার্স ২০১৫ সালে আবুধাবিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক টেষ্ট ম্যাচে ১০ ঘন্টা ক্রিজে কাটিয়ে ২৭৮ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন। উল্লেখ্য এই ম্যাচে শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংবিপর্যয় হয়েছিল।


অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১০৮ (২০০৮)


২০০৮ সালে ডিভিলিয়ার্স অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পারথে ১০৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন এবং এর উপর ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪১৪ রানের বিশাল স্কোর চেজ করে রেকর্ড গড়ে।