WHAT'S NEW?
Loading...

সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশের যত চ্যালেঞ্জ

                                                              


এবারের টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের খেলা বেশ জমে উঠেছে বলা যায়।যদিও একটি খারাপ লাগা রয়েছে যে বাংলাদেশ সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচে তুলনামূলকভাবে দুর্বল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরে গেছে। এর ফলে বাংলাদেশের জন্য এবারের টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ কিছুটা কঠিন হয়ে গেল।এখন সেমি ফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশকে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জিততে হবে। এছাড়া সেমিফাইনালে যেতে হলে এখন বাংলাদেশকে সম্ভবত বেশকিছু যদিকিন্তুর উপর নির্ভর করতে হবে।তবে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে এবার টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপে কোন টিমই একক আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি (কিছুটা ব্যতিক্রম পাকিস্তান)।তবে এখনো বেশকিছু খেলা বাকি রয়েছে তাই এখনই চূড়ান্ত কিছু বলার সুযোগ নেই। আসুন  এবারের ম্যানস টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জগুলো দেখে নিই।


স্কোয়াড সিলেকশনে সতর্কতা



শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের হারের পেছনে বড় একটি কারণ ছিল ভুল স্কোয়াড নির্বাচন । এক্ষেত্রে আরো কিছুটা সচেতন হলে হয়তো বাংলাদেশ জিতে যেত।এর আগে প্রথম পর্বের প্রথম ম্যাচেও ভুল স্কোয়াড দেয়া হয়েছিল। বিশেষত বাংলাদেশের বোলার নির্বাচনের আগে আরো সতর্ক হওয়া উচিত।গত ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সোহান বা নাসুমের বদলে একজন ডানহাতি পেসার খেলালে ভালো হতো।এমনকি সেটি সম্ভব না হলে ইনফর্ম  শরিফুলকে স্কোয়াডে রাখা যেত। সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশকে বাকি ম্যাচগুলোর আগে স্কোয়াড নিয়ে আরো কিছুটা ভাবতে হবে।


শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটিং ভালো হয়েছে


যদিও সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ শ্রীলংকার বিপক্ষে হেরে গেছে তবু একটি বিষয় ইতিবাচক ছিল যে বাংলাদেশ চমৎকার ব্যাটিং করেছে।এ থেকে বলা করা যায় বাংলাদেশ পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ব্যাটিং নিয়ে আশাবাদী হতে পারে। বিশেষত নাঈম শেখ এবারের টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপে চমৎকার ব্যাটিং করছে। এছাড়া গত ম্যাচে মুশফিক যেভাবে শেষপর্যন্ত ব্যাটিং করেছে তাতে মনে হয়েছে সে বিশ্বকাপের উইকেট সম্পর্কে ধারণা পেয়ে গেছে। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহও গত ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করেছে। এবং সুপার টুয়েলভের বাকি ম্যাচগুলোতে ভালো কিছু করতে হলে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ মিডলঅর্ডারকে অবশ্যই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে হবে।



 ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করতে হবে


এবারের টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্লেয়ারদের ফিল্ডিং বাজে হচ্ছে।গত ম্যাচে অভিজ্ঞ লিটন দাস ফিল্ডিংয়ে দুটি হাফচান্সকে তালুবন্দি করতে পারেননি।অথচ অন্তত লিটন যদি একটি ক্যাচ ধরতে পারতেন তাহলে হয়তো শ্রীলঙ্কার পক্ষে এতো সহজে ম্যাচ জেতা সম্ভব হতো না। এবং এটি বিশ্বকাপের মঞ্চ এখানে সেকেন্ড চান্স নয় বরং হাফচান্সকে ফুলচান্সে পরিণত করার চেষ্টা প্লেয়ারদের মধ্যে থাকতে হবে।তাই সুপার টুয়েলভের বাকি ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশকে ফিল্ডিংয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।


অন্যটিমগুলোর স্কোয়াড বিশ্লেষণ করা উচিত


বাংলাদেশের উচিত স্কোয়াড দেয়ার আগে অন্যান্য টিমের স্কোয়াড নিয়ে কিছুটা আলোচনা করা। এবার কোন কোন টিম তিন পেসার নিয়ে খেলছে । এক্ষেত্রে ভারত , পাকিস্তানের উদাহরণ হাতের কাছে রয়েছে। আমাদের স্পেশালিষ্ট স্পিনার সাকিবের সাথে মাহমুদুল্লাহ,আফিফ প্রয়োজনে বল করতে পারে তাই এক্ষেত্রে আরেকজন স্পিনারের বদলে রুবেল বা শরিফুলকে সুযোগ দেয়া যায়। যদিও সবশেষে ধরে নিতে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট সেরা স্কোয়াড দিতে চায়।তবু বাকি ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশকে স্কোয়াড নির্বাচনের আগে অন্য টিমগুলোর স্কোয়াড নিয়েও ভাবা উচিত বলেই মনে হয়।কারণ বিশ্বকাপে সবটিমেই প্রচুর পাওয়ার হিটার রয়েছে এবং এরা ভালো বলকে প্রতিদিনই বিগশটে পরিণত করছে।


কোন টিমকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই


এবারের টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপে সব টিমেই পাওয়ারহিটারদের ছড়াছড়ি। এছাড়া বিশ্বকাপ এলে বড় টিমগুলোর খেলার গতি বেড়ে যায়।আর এসব কিছু বিবেচনা করে বলা যায় যে সুপার টুয়েলভে কোন প্রতিপক্ষই দুর্বল নয় তাই বাংলাদেশের সামনে কোন টিমকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। সেমিফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশকে ব্যাটিং , বোলিং ও ফিল্ডিং তিন ক্ষেএেই সেরাটা দিয়ে খেলতে হবে।


লিখেছেনঃ প্রভাকর চৌধুরী