WHAT'S NEW?
Loading...

ক্রিকেট থেকে ডেল স্টেইনের অবসর

                                                                 


প্রিয় ক্রিকেট ডটকমঃ দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বকালের অন্যতম সেরা পেসার ডেল স্টেইন সবধরণের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।সম্প্রতি এক টুইট বার্তায় স্টেইন সবধরণের ক্রিকেট থেকে নিজের অবসরের কথা জানান (সূত্র: ইএসপিএন ক্রিকইনফো)।আর এর ফলে মাঠের ক্রিকেট থেকে এই পেসতারকা বিদায় নিলেন। এবং এর ফলে স্টেইনকে আর বল হাতে দৌড়াতে দেখা যাবে না। উল্লেখ্য ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ডেল স্টেইন মোট ২৬৫টি ম্যাচ খেলেছেন যেখানে তাঁর মোট সংগ্রহ ৬৯৯ উইকেট।ডেল স্টেইনের ক্যারিয়ার ও বিভিন্ন রেকর্ডচিএ এখানে তুলে ধরছি।



ডেল স্টেইনের ইউনিক বৈশিষ্ট্য



ডেল স্টেইন দক্ষিণ আফ্রিকা তথা ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা বোলারদের মধ্যে অন্যতম। দারুণ গতি, নিখুঁত ভেলিভারি,ভেরিয়েশন ইত্যাদি বিবেচনায় ডেল স্টেইন পেস বোলিংয়ের এক তুলনাহীন চরিত্র।আর এসবের মিশেলে স্টেইন নিজেকে ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ের এক অনন্য চরিত্রে পরিণত করেন। স্টেইনের ক্যারিয়ারে একাধিকবার ইনজুরি ইত্যাদি কারণে ছন্দপতন ঘটেছে তবু শেষপর্যন্ত এই কিংবদন্তি ফাষ্টবোলার নিজেকে সফল এক পেসার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হন। স্টেইনের বোলিংয়ের কিছু ইউনিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে এখানে আলোচনা করছি।



নিখুঁত ভেলিভারি



ডেল স্টেইনের এক উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য তাঁর নিখুঁত ভেলিভারি। এবং এই ডেলিভারির মাধ্যমে স্টেইন বিশ্বের সব কন্ডিশনে সফলতা পেয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বাউন্সি উইকেটে যেমন তাঁর সহজাত ভেলিভারি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে তেমনি এশিয়ার ব্যাটিং উইকেটেও স্টেইন সফলতা পেয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁর বড় শক্তি ছিল নিখুঁত ভেলিভারি ও গতি।এর ফলে স্টেইনকে খেলার সময় ব্যাটসম্যানদের বাড়তি সচেতনতা ও অনুশীলনের প্রয়োজন পড়তো।



চমৎকার ফিটনেস



এই সময়ের ক্রিকেটে ফিটনেস খুব গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয়। এবং পেস বোলারদের জন্য ফিটনেস আরো বেশি জরুরী।ডেল স্টেইনের অসাধারণ পেসের মূল সহায়ক ছিল তাঁর চমৎকার ফিটনেস। ভালো ফিটনেসের কারণে ডেল স্টেইন তাঁর ভেলিভারি এবং গতির মধ্যে দারুণ সমন্বয়  করতে সমর্থ হন। হয়তো খুঁজলে দেখা যাবে গত দুই তিন দশকের সবচেয়ে ফিট পেসারদের মধ্যে ডেল স্টেইনের নামটিও রয়েছে।



কার্যকর গতি



ডেল স্টেইনের বোলিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য কার্যকর গতি। তাঁর বোলিংয়ের গতির মধ্যে চমৎকার কন্ট্রোল দেখা যায় যা এই গ্ৰেট পেসারের সাফল্যের অন্যতম নিয়ামক।গতির সাথে বলের কন্ট্রোল দারুণ থাকার ফলে স্টেইন ব্যাটসম্যানদের সহজে পরীক্ষায় ফেলতে সক্ষম হয়েছেন।সেই সাথে স্টেইনের বলে  ছিল সুইং ও ভেরিয়েশন।ফলে নিখুঁত ভেলিভারির সাথে গতির চমৎকার সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে স্টেইন নিজেকে এক অনন্য পেসার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।



দারুণ ভেরিয়েশন



একজন বোলারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণগুলোর একটি হচ্ছে কার্যকর ভেরিয়েশন।আর পেসারদের ক্ষেএে ভেরিয়েশন ছাড়া বোলিংয়ে সাফল্যের সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।ডেল স্টেইনের বোলিংয়ের বড় এক শক্তি ভেরিয়েশন। ইনসুইং,আউটসুইং, অসাধারণ ইয়র্কার এসব কিছু মিলে স্টেইনের বোলিং বারবার সব পেসারের জন্য বড় এক অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।তুমুল গতির সাথে ভেরিয়েশন দিয়ে স্টেইন নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো তুমুল গতি ও দারুণ ভেরিয়েশনের জন্য এই গ্ৰেট পেসার সবধরণের উইকেটে সফলতা পেয়েছেন।



ডেল স্টেইনের ক্যারিয়ারচিএ


ডেল স্টেইন ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জাতীয় দলের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন ফ্রাঞ্চাইজি ও প্রথমশ্রেণীর ক্রিকেট লিগে তাঁর অসাধারণ সব বোলিংয়ের উদাহরণ রয়েছে।


টেস্ট ক্যারিয়ার


ডেল স্টেইন ২০০৪ সালে টেস্ট ক্রিকেট শুরু করেন।এই গ্ৰেট পেসার ৯৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলে মোট ৪৩৯টি উইকেট নেন। টেস্ট ক্রিকেটে স্টেইন ৫বার ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া ক্রিকেটের এই অভিজাত ফরম্যাটে স্টেইন মোট ২৬বার ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন। সেরা বোলিং ৭/৫১। এছাড়া টেষ্টে ব্যাট হাতে ২টি করেছেন স্টেইন।



ওয়ানডে ক্যারিয়ার


স্টেইনের ওয়ানডে অভিষেক হয় ২০০৫ সালে। তিনি ১২৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে মোট ১৯৬টি উইকেট নেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে স্টেইন মোট ৩বার ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন। সেরা বোলিং ৬/৩৯। ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাট হাতে তাঁর ১টি ফিফটি রয়েছে।



টিটুয়েন্টি ক্যারিয়ার


ডেল স্টেইন ২০০৭ সালে টিটুয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন তারপর ৪৭টি টিটুয়েন্টি ম্যাচ খেলে এই তারকা পেসার মোট ৬৪টি উইকেট নিয়েছেন।সেরা বোলিং ৪/৯।



ডেল স্টেইন যেসব টিমে খেলেছেন



ডেল স্টেইন ক্যারিয়ারজুড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রথমশ্রেণীর ক্রিকেট লিগে খেলেছেন। স্টেইন যেসব টিমের হয়ে প্রথমশ্রেণীর ক্রিকেট খেলেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে নর্দানস,টাইটানস,এসেক্স, ওয়ারউইকশায়ার, রয়াল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু,গ্লামারগাণ, কেপটাউন ব্লিজ, জামাইকা তালাওয়াশ, মেলবোর্ন স্টারস ।




উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি


১.ডেল স্টেইন ২০০৮ সালে আইসিসি টেস্ট প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার মনোনিত হন।


২.২০১১-২০২০ আইসিসি টেস্ট টিম অব দ্য ডিকেইডে তাঁর নাম রয়েছে।


৩.২০০৮ সালে স্টেইন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ষসেরা ক্রিকেটার মনোনিত হন।


৪.২০১৩ সালে স্টেইন উইজডেন লিডিং ক্রিকেটার মনোনিত হন।


৫.২০১৪ সালে এই তারকা পেসার উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার মনোনিত হন।