WHAT'S NEW?
Loading...

অষ্ট্রেলিয়া সিরিজে টাইগারদের যত চ্যালেঞ্জ

                                                                  



অবশেষে অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের হোম সিরিজ মাঠে গড়াতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে অষ্ট্রেলিয়া টিম ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ দল জিম্বাবুয়েকে টেস্ট, ওয়ানডে ও টিটুয়েন্টি সিরিজে পরাজিত করে দেশে ফিরেছে। বাংলাদেশের একাধিক তারকা ক্রিকেটার এই সিরিজে দলের বাইরে রয়েছেন।তবে বাংলাদেশের জন্য সুখবর হলো এই সিরিজে  সাকিব আল হাসান খেলবেন। এছাড়া দলে থাকা মাহমুদুল্লাহ,সৌম্য সরকার,নাইম শেখরা ফর্মে রয়েছেন। অষ্ট্রেলিয়া দলেও একাধিক তারকা ক্রিকেটার এই সিরিজে নেই। তবুও মিশেল স্টার্ক,হার্জেলউড,জাম্পা,ম্যাথু ওয়েড,জস ফিলিপের মত অভিজ্ঞ ও তারকা ক্রিকেটাররা এই সিরিজের অষ্ট্রেলিয়া দলে রয়েছেন। এবং এসবকিছু বিবেচনায় বলা যায় যে বাংলাদেশ ও অষ্ট্রেলিয়ার মধ্যকার একটি চমৎকার টিটুয়েন্টি সিরিজ এবার আমরা দেখতে পাবো।


অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ


আসন্ন টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এই হোম সিরিজ খুবই গুরুত্ব বহন করছে।সদ্যসমাপ্ত জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ দল দারুণ ক্রিকেট খেলেছে ফলে এই সিরিজেও টাইগারদের কাছে ভালো কিছুরই প্রত্যাশা থাকবে।এই সিরিজে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জগুলো এখানে তুলে ধরছি।

অসি পেসকে মোকাবেলা করতে হবে

যদিও খেলা হবে বাংলাদেশের ফ্ল্যাট উইকেটে তবু অতীত অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা করা যায় যে এই সিরিজে বাংলাদেশের জন্য একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে অসি পেসকে সফলভাবে মোকাবেলা করা। মনে রাখতে হবে অষ্ট্রেলিয়া দলে রয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার মিচেল স্টার্ক ও হার্জেলউড। এছাড়াও অসি স্কোয়াডে একাধিক প্রতিভাবান তরুণ পেসার রয়েছে। টাইগার স্কোয়াডে তামিম ইকবাল এবং লিটন দাসের মত স্ট্রং টেকনিকের ব্যাটসম্যান এবার কিন্তু অনুপস্থিত। সুতরাং নাইম শেখ ,সৌম্য সরকার , সাকিব আল হাসান, মাহমুদুল্লাহ,আফিফ হোসেনরা কিভাবে অষ্ট্রেলিয়ার পেসকে মোকাবেলা করেন সেটি অবশ্যই দেখার বিষয়।


সাকিব,সৌম্য, মাহমুদুল্লাহই মূলশক্তি

এই সিরিজে বাংলাদেশের স্কোয়াড বেশ তারুণ্যনির্ভর।আর এক্ষেত্রে মাঠের খেলায় বাংলাদেশের মূল শক্তি হিসেবে সাকিব, মাহমুদুল্লাহ এবং সৌম্য সরকারকে অনেক দায়িত্ব নিতে হবে। যদিও নাইম শেখ,আফিফ হোসেন, সাইফুদ্দিনের মত মেধাবী তরুণ ক্রিকেটারও বাংলাদেশের স্কোয়াডে রয়েছে। এমনকি নতুন আবিষ্কার শামীম হোসেনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন।


স্পিনারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

এই সিরিজে বাংলাদেশের জন্য বড় এক নিয়ামক হতে পারে চেনা উইকেটে স্পিনারদের দাপট। সাকিব, মোসাদ্দেক,নাসুমের স্পিন অষ্ট্রেলিয়ার জন্য বিব্রতকর হয়ে উঠতে পারে।যদিও এটিও সত্য অষ্ট্রেলিয়া দলের অনেকেই আইপিএলে খেলে থাকে এবং স্পিন ভালো খেলে। তাছাড়া অষ্ট্রেলিয়ার  এই দলের প্রায় সবাই বিগব্যাশে খেলে এবং ব্যাটসম্যানদের প্রায় সবাই পাওয়ারফুল হিটার হিসেবে পরিচিত। 

সুইং বোলারদের সম্ভাবনা বেশি

এই সিরিজে বাংলাদেশের সাফল্যের জন্য টাইগার সুইং বোলারদের ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে মোস্তাফিজ, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ,রুবেল হোসেনের উপর বাংলাদেশের সাফল্য ব্যাপকভাবে নির্ভর করবে।কারণ শুধু পেস দিয়ে কিংবা ফিঙ্গার স্পিনার দিয়ে অষ্ট্রেলিয়ার ক্লিন ও পাওয়ারফুল হিটারদের সামলানো যাবে না। এক্ষেত্রে মোস্তাফিজ, তাসকিনের মিডিয়াম পেসের সাথে সুইং অষ্ট্রেলিয়ার জন্য বিব্রতকর হতে পারে।


ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করতে হবে


গত শ্রীলঙ্কা সফর থেকেই বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ে কিছুটা ছন্নছাড়া ভাব দেখা যাচ্ছে। এমনকি সর্বসম্প্রতি জিম্বাবুয়ে সফরেও বাংলাদেশের ফিল্ডারদের ঘনঘন ক্যাচমিস চোখে পড়ছে। কিন্তু অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টিটুয়েন্টি সিরিজে এমনটি যাতে না হয় সে বিষয়ে অবশ্যই সচেষ্ট হতে হবে। টিটুয়েন্টি ক্রিকেটে সাফল্যের জন্য ভালো ফিল্ডিংয়ের গুরুত্ব ব্যাপক।


বাংলাদেশ-অষ্ট্রেলিয়া টিটুয়েন্টি পরিসংখ্যান


বাংলাদেশ ও অষ্ট্রেলিয়ার মধ্যে ইতিমধ্যে মোট ৪টি টিটুয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে সবকটিতেই অষ্ট্রেলিয়া জয়লাভ করেছে। বাংলাদেশ সর্বশেষ অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টিটুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল ২০১৬ সালের টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপে।


বাংলাদেশ-অষ্ট্রেলিয়া টিটুয়েন্টি ম্যাচসূচি

বাংলাদেশ ও অষ্ট্রেলিয়ার মধ্যকার পাঁচ ম্যাচ টিটুয়েন্টি সিরিজের সূচি এখানে তুলে ধরছি।এই সিরিজের সবগুলো ম্যাচ মিরপুর শেরেবাংলা  জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।


প্রথম টিটুয়েন্টি- ৩ আগষ্ট,২০২১ (বিকাল ৫:৩০ স্ট্যা:টা:/বাংলাদেশ সন্ধ্যা ৬টা)
দ্বিতীয় টিটুয়েন্টি- ৪ আগষ্ট ,২০২১ (বিকাল ৫:৩০ স্ট্যা:টা:/বাংলাদেশ সন্ধ্যা ৬টা)
তৃতীয় টিটুয়েন্টি- ৬ আগষ্ট,২০২১ (বিকাল ৫:৩০ স্ট্যা:টা:/বাংলাদেশ সন্ধ্যা ৬টা)
চতুর্থ টিটুয়েন্টি- ৭ আগষ্ট,২০২১ (বিকাল ৫:৩০ স্ট্যা:টা:/ বাংলাদেশ সন্ধ্যা ৬টা)
পঞ্চম টিটুয়েন্টি - ৯ আগষ্ট,২০২১ (বিকাল ৫:৩০সন্ধ্যা/বাংলাদেশ সন্ধ্যা ৬টা)



লিখেছেনঃ প্রভাকর চৌধুরী