WHAT'S NEW?
Loading...

নিরাপদ ঈদের কেনাকাটার টিপস

                                                             


প্রিয় ক্রিকেট ডটকমঃ দেখতে দেখতে আরেকটি ঈদ এসে গেছে। মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ।ঈদের কেনাকাটা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।তবে মনে রাখতে হবে করোনা মহামারী কিন্তু এখনো চলছে।তাই ঈদের কেনাকাটা কিংবা আত্মীয়তার ভিড়ে যেন আবার করোনায় আক্রান্ত  হয়ে না যান সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।আর নিজে করোনা সম্পর্কে সচেতন থাকলে আপনার পরিবার, প্রতিবেশী সবাই নিরাপদে থাকবে সেটিও মনে রাখতে হবে।করোনাকালিন ঈদের কেনাকাটা ইত্যাদি কিভাবে সর্তকতার সাথে নিরাপদে সম্পন্ন করবেন তা নিয়ে কিছু টিপস এখানে তুলে ধরছি।


মাস্ক ব্যবহার করুন


ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক  ব্যবহার করুন।কারণ মাস্ক আপনাকে করোনা থেকে অনেকটাই সুরক্ষা দেবে। এছাড়া সঠিক মাস্ক ব্যবহার করুন। সেইসাথে সঠিকভাবে মাস্ক পরার চেষ্টা করুন।মাস্কটি সঠিকভাবে ব্যবহারের উপায় জানতে অনলাইনে সার্চ দিয়ে দেখে নিতে পারেন। এবং মাস্ককে জীবাণুমুক্ত রাখার উপায় সম্পর্কেও জেনে নিন। পরিস্কার ও পরিছন্ন মাস্ক ব্যবহার করুন।

প্লাস্টিকের গ্লাভস ব্যবহার করুন


এই সময়ে বাইরে চলাফেরা করার ক্ষেএে হাতে প্লাষ্টিকের গ্লাভস ব্যবহার করতে পারেন। এবং বাসায় ফিরে গ্লাভসটি ডাষ্টবিনে ফেলে দিন।তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন গ্লাভস কোন ভাবে মুখ বা মুখের ভেতরে স্পর্শ না করে। এজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্লাভস আগেই ঘরে রাখুন যেন বাইরে বেরোলে ব্যবহার করতে পারেন।


হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন


এই সময়ে করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা উচিত।তাই ঘর থেকে বেরোনোর আগে এবং ঘরে ফিরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাতকে জীবাণুমুক্ত করুন।ঈদের কেনাকাটা করতে গেলে অবশ্যই এই কাজটি গুরুত্ব দিয়ে করুন কারণ ঈদের বাজারে মানুষের ভিড়ে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।তাই এই সময়ে ঘর/বাসা থেকে বেরিয়ে এবং ঘরে/বাসায় ফিরে অবশ্যই হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাতকে জীবাণুমুক্ত করুন।


বিকল্প হিসেবে সাবান


করোনার এই সময়ে বাইরে কেনাকাটা কিছুটা হলেও অনিরাপদ তবু যেহেতু এটি মুসলমানদের ঈদের সিজন তাই অনেকেই বাইরে যাবেন।এই সময়ে বাইরে কেনাকাটা বা বাজারসওদায় গেলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।আর ঈদের সময়ে করোনায় আক্রান্ত হলে সব উৎসব- আনন্দ মাটি হয়ে যাবে এবং সেই সাথে বাড়বে বহুবিধ বিড়ম্বনা ।  এজন্য নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে বাহির থেকে ফিরে ভালো করে হাত মুখ সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।পরনের কাপড় চোপড় অবশ্যই সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

শিশুদের নিয়ে কেনাকাটা নয়


এই সময়ে শিশুদের নিয়ে বাজারে যাওয়া মোটেও ঠিক হবেনা।এই সময়ে শিশুকে নিয়ে বাজারে গেলে  আপনার সাথে আপনার শিশুটিও করোনার ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।এরফলে বাড়তে পারে বিভিন্ন বিড়ম্বনা।আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম হলো শিশুদের জন্য অনলাইনে বাজার করে ফেলা কিংবা শিশুদের বাসায় রেখে যাওয়া।


অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারেন


এখন দেশজুড়ে অনেকগুলো অনলাইন শপ রয়েছে সেখানে মার্কেটিং করতে পারেন। এক্ষেত্রে হাতের স্টার্টফোনটি ব্যবহার করে গুগল প্লেস্টোর থেকে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুপরিচিত অনলাইন শপের অ্যাপ ডাউনলোড করে নিন।তারপর পছন্দের পণ্যটি অনলাইন শপ থেকে কিনে ফেলুন।মনে রাখবেন অনলাইনে কেনাকাটায় পেমেন্টের ক্ষেএে 'ক্যাশ অন ডেলিভারি ' সিষ্টেমটিই বেটার হবে।


অসুস্থ শরীরে বাজারে যাবেন না


এই সময়ে করোনা ছাড়াও বিভিন্ন মৌসুমী রোগ বেড়ে যায় তাই শরীরে কোন অসুখ থাকলে বাজারে না যাওয়াই ভালো হবে। এসব ক্ষেত্রে ঘরে বসে অনলাইনে বাজার করে ফেলুন। শরীর অসুস্থ বুঝলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। তা না হলে অসুস্থ শরীরে বাজারে গিয়ে করোনার মত জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।


ভিড় এড়িয়ে চলুন


ঈদের সময়ে এমনিতেই বাজারে ও রাস্তাঘাটে প্রচুর ভিড় দেখা যায়।তাই ঈদের কেনাকাটা করতে বেরোলে এসব ভিড় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।যে মার্কেটে ভিড় কম সেখানে মার্কেটিং করার চেষ্টা করুন।প্রয়োজনে রাতে মার্কেটিং করতে পারেন। কোনভাবেই এই সময়ে মানুষের ভিড়ে ঢুকবেন না।কারণ এখন মানুষের ভিড় থেকে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে।


রিজার্ভ গাড়ি ব্যবহার করুন

করোনার এই সময়ে লোকাল গাড়িতে চলাচল করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।তাই ঈদের বাজারে বেরোলে রিজার্ভ গাড়ি ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এক্ষেত্রে হয়তো কিছু বাড়তি অর্থ ব্যয় হবে কিন্তু নিজেকে নিরাপদ রাখতে এর বিকল্প নেই।


অহেতুক ঘোরাঘুরি ঝুঁকিপূর্ণ

এই সময়ে অনেকে অহেতুক ঘোরাঘুরি করতে পছন্দ করেন। কিন্তু ঈদের বাজারে ভিড় বেশি থাকে তাই বাজারে এই সময়ে অহেতুক ঘোরাঘুরি না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।কারণ এই সময়ে মানুষের ভিড়ে অহেতুক ঘোরাঘুরি করতে যেয়ে উল্টো করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন আর করোনায় আক্রান্ত হলে বাড়বে জীবনের বিড়ম্বনা।


বেশিদূরে কেনাকাটা নয়


অনেকে ঈদে বেশিদূর গিয়ে বাজার করতে পছন্দ করেন।তবে করোনা যেভাবে লাফিয়ে বাড়ছে তাতে দূরে গিয়ে বাজার করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। বরং হাতের স্মার্টফোন ব্যবহার করে কিংবা কাছের কোন বাজারে মার্কেটিং করাই এই সময়ে ভালো হবে।

বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন


করোনায় আক্রান্ত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকতে এই সময়ে বাইরের খাবার না খাওয়াই ভালো।কারণ বাইরে খাবার খেলে করোনার এই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাবে।যদি একান্তই বাইরে খেতে হয় তাহলে ফুডপান্ডা বা অন্যকোন অনলাইন শপ থেকে খাবার অর্ডার করতে পারেন।আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো এই সময়ে খাবারদাবারে সর্তক থাকতে হবে তা নাহলে ফুডপয়জনিং ইত্যাদি রোগে অসুস্থ হয়ে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।


আত্মীয়তা অনলাইনে সম্পন্ন করুন

করোনার এই সময়ে আত্মীয়তার ভিড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন।তাই ঈদের আত্মীয়তা যথাসম্ভব অনলাইনে সম্পন্ন  করুন। এক্ষেত্রে ফেসবুক লাইভ,জুম ,স্কাইফি ইত্যাদি মাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন।


একবারে সব বাজার নয়


অনেকে ঈদের খুশিতে অতিরিক্ত বাজার করে ফেলেন এর ফলে যেমন অপচয় বাড়ে তেমনি বাজারে চাপ পড়ে এবং দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়।তাই করোনাকালিন এই ঈদে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাজার করতে যাবেন না।