WHAT'S NEW?
Loading...

টেস্ট ক্রিকেট থেকে মাহমুদুল্লাহর অবসর

                                                                


প্রিয় ক্রিকেট ডটকমঃ বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফিনিশার  মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচ চলাকালে মাহমুদুল্লাহ এই ঘোষণা দেন।এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের অন্যতম সেরা এই  ফিনিশার নিজের টেষ্ট ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন। বাংলাদেশের হয়ে দারুণ সব ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে এই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানের ঝুঁলিতে। মাহমুদুল্লাহর জন্য আমাদের অসংখ্য শুভকামনা রইল। এখানে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ক্যারিয়ারচিএ তুলে ধরছি।


টেস্ট ক্যারিয়ার


২০০৯ সালে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন । এই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানের টেস্ট অভিষেক হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৫০টি টেস্ট খেলেছেন যেখানে ব্যাট হাতে ২৭৬৪ রানের পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৪৩টি উইকেট। টেস্ট ক্রিকেটে মাহমুদুল্লাহর ৫টি সেঞ্চুরি ও ১৬টি ফিফটি রয়েছে। এছাড়া টেস্ট ক্রিকেটে ১বার ম্যাচে ৫উইকেট নিয়েছেন এই তারকা অলরাউন্ডার।


ওয়ানডে ক্যারিয়ার

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ইতিমধ্যে ১৯৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন যেখানে ব্যাট হাতে তাঁর সংগ্রহ ৪২৬২ রান এবং বল হাতে সংগ্রহ ৭৬ উইকেট। ওয়ানডে ক্রিকেটে মাহমুদুল্লাহর ৩টি সেঞ্চুরি ও ২৩ টি ফিফটি রয়েছে।


টিটুয়েন্টি ক্যারিয়ার

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বাংলাদেশের বর্তমান টিটুয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ইতিমধ্যে ৮৫টি আন্তর্জাতিক টিটুয়েন্টি ম্যাচ খেলে ৪ফিফটিসহ  ১৪৬১ রান করেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক টিটুয়েন্টিতে বল হাতে ৩১টি উইকেট নিয়েছেন এই তারকা অলরাউন্ডার।

ডমেষ্টিক ক্যারিয়ার

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বাংলাদেশের জাতীয় লিগ,বিপিএল ছাড়াও সিপিএল,পিএসএলে খেলেছেন। বাংলাদেশের প্রথমশ্রেণীর ক্রিকেটে এই অলরাউন্ডার ঢাকা ডিভিশন,বিপিএলে চিটাগাং কিংস,খুলনা টাইটানস, বরিশাল বুলস ইত্যাদি টিমে খেলেছেন। সিপিএলে মাহমুদুল্লাহ জামাইকা তালাওয়াশ,সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস প্যাটট্রিয়র্সের হয়ে খেলেছেন।পিএসএলে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলেছেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।


মাহমুদুল্লাহর অজানা রেকর্ড

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বাংলাদেশের ক্রিকেটে অন্যতম সেরা ফিনিশার হিসেবে স্বীকৃত। আসুন মাহমুদুল্লাহর কিছু অজানা রেকর্ড  সম্পর্কে জেনে নেই।



২০১৫ বিশ্বকাপে অপূর্ব নৈপুণ্য

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ক্যারিয়ারে ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ আলাদা অধ্যায় হয়ে রয়েছে। সেই বিশ্বকাপে মাহমুদুল্লাহ ৬ ম্যাচে ২টি সেঞ্চুরিসহ মোট ৩৬৫রান সংগ্রহ করেন।সেই বিশ্বকাপে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ২০১৫ বিশ্বকাপে মাহমুদুল্লাহ ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ দুই সেঞ্চুরি হাঁকান যেখানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ দল জয়লাভ করে।


২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ব্যাটিং

২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কিউইদের বিপক্ষে ম্যাচে সাকিবের সাথে তাঁর দুর্দান্ত এক জুটির রেকর্ড রয়েছে।সেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে মাহমুদুল্লাহ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ এক সেঞ্চুরিও করেন।


প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপ সেঞ্চুরি

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে মাহমুদুল্লাহ প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক ম্যাচে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন।এর আগে কোন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করতে পারেননি।


বিশ্বকাপে পরপর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের শীর্ষ রান সংগ্ৰাহক ছিলেন মাহমুদুল্লাহ। সেই বিশ্বকাপে পরপর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করার কীর্তিও গড়েন এই ফিনিশার। বাংলাদেশের আর কোন ব্যাটসম্যান বিশ্বকাপে পরপর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করতে পারেননি।


মাহমুদুল্লাহময় কিছু ম্যাচ

মাহমুদুল্লাহর একক নৈপুণ্যে বাংলাদেশ অসংখ্য ম্যাচ জিতেছে ।এমনই মাহমুদুল্লাহময় কিছু ম্যাচের কথা এখানে তুলে ধরছি।


ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে ২০০৯ এর ওয়ানডে নৈপুণ্য

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অসাধারণ সব ম্যাচের একটি হচ্ছে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ। ওয়ার্নার পার্কের সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ওয়েষ্ট ইন্ডিজকে ৩উইকেটে পরাজিত করে।সেই ম্যাচে মাহমুদুল্লাহ ব্যাট হাতে অপরাজিত ৫১ রান ও বল হাতে ২টি উইকেট নেন।

২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ইংল্যান্ডকে ১৫ রানে পরাজিত করে। সেই ম্যাচে মাহমুদুল্লাহ ১০৩ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে দলকে জয়ের ভিত তৈরি করে দেন।


২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কিউইদের বিপক্ষে জয়

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ম্যাচ ছিল ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কার্ডিফে খেলা ম্যাচ।একদিনের আন্তর্জাতিক সেই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের কাছে ৫উইকেটে পরাজিত হয় এবং সেই ম্যাচে মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত ১০২ রানের একটি টনের্ডো ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান।