WHAT'S NEW?
Loading...

টাইগারদের শ্রীলঙ্কা সিরিজ প্রসঙ্গ

                                                                 

                                                                 

যাহোক করোনাকালিন সময়ে শ্রীলঙ্কার মাটিতে একটি টেষ্ট ড্র করার জন্য বাংলাদেশ টিমকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।দ্বিতীয় টেস্টেও ব্যাটসম্যানরা আরো কিছুটা দায়িত্বশীল হলে ম্যাচ ড্র করা যেত। শ্রীলঙ্কা সিরিজে টাইগারদের বাজে ফিল্ডিং চোখে পড়ার মত ছিল। আশাকরি পরবর্তী সিরিজে এগুলো ঘটবে না। টাইগারদের শ্রীলঙ্কা সিরিজের একটি মূল্যায়ন এখানে তুলে ধরছি।


ওপেনিংয়ে তামিমের একার লড়াই


শ্রীলঙ্কার মাটিতে এই টেস্ট সিরিজে তামিম তাঁর সেরাটুকু দিয়ে ব্যাটিং করেছে সেজন্য তাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।আর পরিসংখ্যান বিচারে এই মুহূর্তে এশিয়ার সেরা টেস্ট ওপেনারদের অন্যতম তামিমের কাছে এমন কিছু প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু একটি বিষয় এখানে ভাবার রয়েছে । শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেষ্টেই কিন্তু বাংলাদেশের ওপেনিংয়ে তামিম ছাড়া আর কাউকে সেভাবে খোঁজে পাওয়া যায়নি।এটি অবশ্যই বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক ঘটনা নয়।সাইফ হাসানকে বরং টিটুয়েন্টি বা অন্য ফরম্যাটে দেখার সুযোগ আছে।তাই এখানে দলে থাকা সাদমানকে টেস্ট ওপেনিংয়ে খেলানো যুক্তিযুক্ত ছিল।বিষয়টি ভবিষ্যতে ভাবতে হবে। টেস্টে ব্যাটিং থেকে ভালো কিছু পেতে তামিমের একজন যোগ্য ওপেনিং সঙ্গী প্রয়োজন।

মুশফিকের সেট হয়ে আউট হয়ে যাওয়া


বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটিংয়ের মেরুদন্ড কিন্তু মুশফিকুর রহিম।কারণ মুশফিকের টেকনিক শক্তিশালী। তাছাড়া তাঁর মধ্যে সবধরণের ক্লাসিক্যাল শট খেলার সক্ষমতা রয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে ভালো ব্যাটিংয়ের একটি বড় শর্ত হিসেবে আমি  সবধরণের ক্লাসিক্যাল শট খেলার সক্ষমতাকে এগিয়ে রাখি। এক্ষেত্রে তামিম, মুশফিক, মুমিনুল,লিটন এ মুহূর্তে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান।তবু শ্রীলঙ্কা সিরিজে বিশেষত দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিকের কাছে বড় একটি ইনিংস প্রত্যাশা করেছিলাম।মিস্টার ডিপেন্ডডেবুল বড় ইনিংস খেললে হয়তো বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্টে ভালো কিছু পেত।

লিটনের ব্যাটিং অর্ডার

লিটন দাস বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে টেকনিকের দিক থেকে এই মুহূর্তে শীর্ষ পাঁচে রয়েছে। সুতরাং তাকে টেষ্টে সঠিক জায়গায় ব্যাটিংয়ের সুযোগ দেয়া উচিত।যদি টিম ম্যানেজম্যান্ট শ্রীলঙ্কা সিরিজে সাদমানকে বিশ্রাম দেবার কথা ভেবেছিল তখন লিটনকে ওপেনিংয়ে পাঠালে সে হয়তো  ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে বড় ইনিংস খেলতে পারতো।লিটনকে আসলে টেষ্টে ভালোভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।অথচ টেস্ট ক্রিকেটে ভালো ব্যাটিংয়ের সবধরণের যোগ্যতাই লিটনের মধ্যে রয়েছে।


তাসকিনের ফর্মে ফেরা 

বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পেসার মোস্তাফিজ আইপিএল খেলতে ছুটিতে রয়েছেন। তাছাড়া তাসকিন আহমেদ বহুদিন ধরে নিজের সেরা ফর্মে নেই ফলে এই সিরিজে বাংলাদেশের পেস বোলিং নিয়ে কিছু সংশয় কিন্তু ছিল।তবে তাসকিন আহমেদ মোটামুটি ভালো বোলিং করেছেন এবং তাকে এই সিরিজে সাম্প্রতিক কালের থেকে আরো ভালো বোলিং করতে দেখা গেছে।এটি অবশ্যই বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য পজিটিভ বিষয়।কারণ তাসকিন আহমেদ এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে নিখুঁত ভেলিভারির পেসার। মাশরাফির অবর্তমানে বাংলাদেশের পেস অ্যাটাকে ইনফর্ম তাসকিনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক।এই সিরিজে শরিফুলের বোলিং ,অ্যাকশন ইত্যাদি বেশ সুন্দর ছিল যদিও বাজে ফিল্ডিংয়ের জন্য তাঁর কিছু উইকেট মিস হয়েছে। শরিফুলের কিছু কিছু ডেলিভারি সত্যিই অসাধারণ ছিল। বুদ্ধিদীপ্ত পেসের সাথে ভেরিয়েশন শরিফুলের মূলশক্তি।যদি ওকে খেলার মধ্যে রাখা যায় তাহলে আরেকজন ভালো পেসার বাংলাদেশ হয়তো পেয়ে যাবে।

ভালো লেগস্পিনারের অভাব ছিল


আইপিএলের জন্য সাকিব, মোস্তাফিজ দলে নেই তাছাড়া শাহাদাত, মাশরাফির মত গতির পেসার এখন দলে নেই ফলে এই সিরিজে বাংলাদেশের বোলিংয়ের মূল দায়িত্ব ছিল তাসকিন ও তাইজুলের কাঁধে। তাসকিন ও তাইজুল বেশ চেষ্টা করেছে যদিও উইকেট প্রায় পুরোটাই ব্যাটিংবান্ধব ছিল। এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের বোলিং দেখে মনে হয়েছে দলে একজন আন্তর্জাতিক মানের লেগস্পিনারের অভাব আছে। সাকিবের অনুপস্থিতিতে একজন লেগস্পিনার টেষ্টে ব্রেকথ্রোর জন্য খুব প্রয়োজন ছিল। যাহোক পরবর্তীতে নিশ্চয় টিম ম্যানেজম্যান্ট এটি নিয়ে ভাববে।


তবু একটি ম্যাচ ড্র করা ইতিবাচক

শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কা সবসময় একটি কঠিন টিম।এটি সব ক্রিকেটপ্লেয়িং দেশই কিন্তু বলে থাকে। বাংলাদেশের জন্যও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ নিশ্চিতভাবে কঠিন ছিল। উপরন্তু করোনাকালিন বিধিনিষেধ জৈব সুরক্ষা ইত্যাদি অবশ্যই এক্সট্রা প্রেসার। তবু শেষপর্যন্ত বাংলাদেশ একটি টেস্ট ড্র করেছে সেটিকে এ সময়ে ভালো রেজাল্ট হিসেবে দেখছি।আর দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা আরো কিছুটা সতর্ক হলে হয়তো সেটিতে হারতে হতো না।

লিখেছেন: প্রভাকর চৌধুরী