WHAT'S NEW?
Loading...

যেমন দেখছি এবারের আইপিএল

অবশেষে বহু জল্পনাকল্পনার পর আইপিএলের ১৪তম আসর মাঠে গড়ালো।ক্রিকেটামুদী হিসেবে শেষপর্যন্ত বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি। এবং এবারের আইপিএলেও করোনার কারণে দর্শকবিহীন ক্রিকেট চলছে। যদিও দর্শকহীন ক্রিকেট কিছুটা হলেও উওাপ হারাতে বাধ্য। তবে বাস্তবতা হচ্ছে এবারের আইপিএলের একাধিক খেলা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে।ম্যাচগুলো মোটামুটি জমজমাট হচ্ছে। উদ্ভাবনী ম্যাচে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স পরাজিত হয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে ধোনির সিএসকেও পরাজিত হয়েছে ।আর এসবের মধ্যে যে বিষয়গুলো চোখে লেগেছে তা এখানে তুলে ধরছি।

                                                              


বড় টোটালই যথেষ্ট নয়

গত আইপিএলে মাঝারি টোটাল দিয়েও লড়াই করেছে দলগুলো ।তবে এবার আর সেটি সম্ভবত হচ্ছে না। এবারের আইপিএলে একটি বিষয় খুবই লক্ষণীয় যা ইতিমধ্যে দেখা গেছে এবং সেটি হচ্ছে এবার বড় টোটালই ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। এবার বড় ইনিংস টোটালের পাশাপাশি ভালো ও বিচক্ষণ বোলারও হাতে থাকতে হবে। আইপিএলের অন্যতম ফেবারিট টিম চেন্নাই সুপারকিংস দিল্লির বিপক্ষে ১৮০ প্লাস রান করেও কিন্তু ম্যাচ জিততে পারেনি।তাই এবারের আসরে শুধু বেশি রান করলেই চলছে না এরসাথে কৌশলী বোলার আর বিচক্ষণ গেমপ্ল্যানও লাগবে।তারকা বোলার দলে থাকলেই ম্যাচ জয় নিশ্চিত একথাও সম্ভবত এবার বলা যাবেনা। চেন্নাই এবং মুম্বাইয়ের হার এক্ষেত্রে বড় উদাহরণ।

গেমচেঞ্জার ব্যাটসম্যানরা গুরুত্বপূর্ণ

আইপিএলের বিগত আসরগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে যে এখানে গেমচেঞ্জার ব্যাটসম্যানরা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না।প্রথম ম্যাচে বেঙ্গালুরুর প্রায় নিশ্চিত হারকে একাই রুখে দেন এবি ডিভিলিয়ার্স তাঁর দৃঢ়চেতা ব্যাটিং দিয়ে।আর ডিভিলিয়ার্স না দাঁড়ালে হয়তো বেঙ্গালুরু ম্যাচ থেকে ছিটকে যেত। এছাড়াও  প্রথম ম্যাচে মুম্বাইয়ের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে বেঙ্গালুরুর ক্যাপ্টেন কোহলির গেমপ্ল্যান যথার্থ ছিল একথাও স্বীকার করতে হচ্ছে। কারণ এই ম্যাচে রোহিতকে শুরুতে রান আউট করার ফলে মুম্বাইকে মাঝারি রানে থামানো সম্ভব হয়েছিল। তবু শেষপর্যন্ত বেঙ্গালুরুর জয়ের ক্ষেএে এবি ডিভিলিয়ার্সের অপূর্ব ইনিংসের কথা বলতেই হচ্ছে। প্রতিপক্ষ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে তারকা বোলারের (বোল্ট,বুমেরাং, পোলার্ড)ছড়াছড়ি তবু এবি নিজস্ব দক্ষতায় প্রায় একাই কিন্তু বেঙ্গালুরুকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান।এবির ম্যাচজয়ী ইনিংসটি দেখে তাই মনে হচ্ছে এবার এবি ডিভিলিয়ার্স,পন্ত, সাকিব, পোলার্ড,রায়নার মত গেমচেঞ্জারদের ভূমিকা সব দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ব্রেকথ্রু বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ

আইপিএলের প্রতিটি আসরেই বোলিংয়ের ক্ষেএে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল টিমগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।কখনো স্পিনাররা কখনোবা আবার গতিতারকারা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন।তেমনি এবারের আইপিএলে ব্রেকথ্রু বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন। এক্ষেত্রে ম্যাচের গতি নির্ধারণে বুমরা,জেমিসন,রাবাদা,চাহাল, সাকিব,জাদেজার মত বোলার বেশি সাফল্য পেতে পারেন । কারণ দলগুলোর  ব্যাটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দ্রুত টপঅর্ডারের উইকেট ফেলে দিয়ে ব্রেকথ্রু বোলাররা ম্যাচকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছেন। বেঙ্গালুরুর প্রথম ম্যাচ বা মুম্বাইয়ের প্রথম ম্যাচের উদাহরণ এক্ষেত্রে দেয়া যায়।

গতি নয় কৌশলী বোলিং গুরুত্বপূর্ণ

এই আইপিএলে সাফল্য পেতে চাইলে পেসারদের শুধু গতি দিয়ে কাজ নাও হতে পারে বরং গতির পাশাপাশি বুদ্ধিমওা ও কৌশলী বোলিং গুরুত্বপূর্ণ হবে।অবশ্য আইপিএলে সবসময়ই কৌশলী বোলিং সফলতা পেয়েছে।গত আসরে বুমরা ও বোল্টের কথা এক্ষেত্রে বলা যায়।এই আসরে কাইল জেমিসন,মোঃ:সিরাজদের বোলিং দেখেও তা-ই মনে হচ্ছে। এবারের আইপিএলে প্রথম ম্যাচে দুদলের বোলাররাই কৌশলী বোলিংকে গুরুত্ব দিয়েছেন যদিও  দিনটি ডিভিলিয়ার্স শেষপর্যন্ত তাঁর মাষ্টারটেকনিক দিয়ে নিজের করে নিয়েছেন ।

গেমপ্ল্যানের গুরুত্ব স্বীকার করতেই হবে


আইপিএলের মত হাইভোল্টেজ ক্রিকেটে গেমপ্ল্যান সবসময় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।ভালো গেমপ্ল্যান ছাড়া আইপিএলে ম্যাচজয় ম্যাচে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। চেন্নাই সুপারকিংস আইপিএলের সফল দলগুলোর মধ্যে অন্যতম।আর চেন্নাইয়ের সাফল্যের পেছনে অধিনায়ক ধোনির অসাধারণ গেমপ্ল্যানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।প্রথম ম্যাচে কোহলির গেমপ্ল্যান ভালো ছিল এবং সে শুরুতেই মুম্বাইয়ের টপঅর্ডারকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় ম্যাচে দিল্লির অধিনায়ক রিসভ পন্তের গেমপ্ল্যানও যথার্থ ছিল।

তারুণ্যনির্ভর টিমগুলোর সম্ভাবনা বেশি

যদিও একসময় চেন্নাইয়ের মত টিম বুড়োদের নিয়ে আইপিএলে সফলতা পেয়েছে তবু গত দুই আইপিএলে কিন্তু তাঁরা খুব বেশি সাফল্য পায়নি ।বরং গত দুই আইপিএলে তারুণ্যনির্ভর মুম্বাই,দিল্লি,পাঞ্জাব বেশি সাফল্য পেয়েছে।এবারও আইপিএল মনে হচ্ছে সেই পথে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দিল্লি,মুম্বাই , বেঙ্গালুরুর তরুণরা এবার ভালো খেলছেন। বেঙ্গালুরুর প্রথম ম্যাচে  জেমিসন , মোঃ সিরাজের মত তরুণ ক্রিকেটাররা  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দিল্লির প্রথম ম্যাচেও তেমনটাই দেখা গেছে। চেন্নাইয়ের প্রথম ম্যাচে কিন্তু রায়না ছাড়া আর কোন সিনিয়র ব্যাটসম্যানকে সেভাবে পাওয়া যায়নি। আর এসব কিছু বিবেচনায় বলা যায় এবারও তারুণ্যনির্ভর টিমগুলোকে এগিয়ে রাখতে হবে।

শুধু তারকাবহুল টপঅর্ডার যথেষ্ট নয়

তারকাবহুল টপঅর্ডার সবাই চায় কিন্তু এবারের আইপিএলে এই টোটকা কাজ নাও দিতে পারে। মুম্বাইয়ের প্রথম ম্যাচে রোহিত শর্মা শুরুতে রানআউট হবার পর লিন ছাড়া আর কোন তারকা ব্যাটসম্যানই সেভাবে দাড়াতে পারেননি। এমনকি বেঙ্গালুরুর ইনিংসেও তাদের তারকা ব্যাটসম্যানরা প্রায় ব্যর্থ হন(ব্যতিক্রম ডিভিলিয়ার্স)। চেন্নাই সুপারকিংসের প্রথম ম্যাচে রায়না প্রায় একাই দলকে সম্মানজনক টোটাল এনে দেন এবং তাদের আর কোন তারকা ব্যাটসম্যানকে সেভাবে খোঁজে পাওয়া যায়নি। ঠান্ডামাথার ও কৌশলী ব্যাটসম্যানরা এবার আইপিএলে বেশি সাফল্য পাবেন বলে মনে হচ্ছে অন্তত দিল্লির প্রথম ম্যাচে ধাওয়ানের দারুণব্যাটিং তেমন কিছুরই ইঙ্গিত দেয়।

লিখেছেনঃপ্রভাকর চৌধুরী