WHAT'S NEW?
Loading...

নিউজিল্যান্ড সফরের টাইগার স্কোয়াড প্রসঙ্গ

                                                       


প্রিয় ক্রিকেট ডটকমঃ নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে ও টিটুয়েন্টি সিরিজ খেলতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ দল পৌঁছে গেছে।এই সফরের জন্য ২০সদস্যের স্কোয়াড নিয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ বাংলাদেশ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলাম। সাকিব আইপিএলের জন্য ছুটি নিয়েছেন। তাইজুল সীমিত ওভারের দল থেকে বাদ পড়েছেন। নিউজিল্যান্ড সফরে দলে ফিরেছেন পেসার আল-আমিন হোসেন, অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন এবং টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান নাঈম শেখ। নিউজিল্যান্ড সফরে দলে নতুন মুখ হিসেবে রয়েছেন স্পিনার নাসুম আহমেদ।


সাকিবের অনুপস্থিতি অবশ্যই ভাবনার 


নিউজিল্যান্ড সফর থেকে ছুটি নিয়েছেন সাকিব আল হাসান কারণ তিনি আইপিএল খেলবেন।আর সঙ্গতকারণে সাকিব বিহীন বাংলাদেশদল কিছুটা হলেও দুর্বল। সাবেক এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের অভাব বাংলাদেশ দল এই সিরিজে অবশ্যই বোধ করবে।আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টিটুয়েন্টির অতীত ইতিহাস খুব সুখকর নয়। এবং এমন এক বাস্তবতায় এই সফরে বাংলাদেশ দল সাকিবের অনুপস্থিতিতে অবশ্যই কিছুটা দুর্বল থাকবে।তবে যেহেতু সাকিব দলে নেই তাই এই সিরিজে বাংলাদেশ দলকে তিন থেকে চারজন ব্যাটিং অলরাউন্ডার নিয়ে মাঠে নামতে হবে। মাহমুদুল্লাহ, সাইফুদ্দিন,মিরাজ,সৌম্য, মোসাদ্দেকের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। এই সিরিজে সাকিবের অনুপস্থিতিতে মাহমুদুল্লাহর ফর্ম খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

সিনিয়রদের দায়িত্ব বেশি

এই সিরিজে টাইগার সিনিয়র প্লেয়ারদের অনেক বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।বিশেষত তামিম, মাহমুদুল্লাহ, মুশফিক, মোস্তাফিজ, আল-আমিন, তাসকিন,মিরাজ, লিটনের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। সাকিব,মাশরাফি দলে নেই তাই ওয়ানডে ও টিটুয়েন্টিতে অলরাউন্ডার সাইফুদ্দিন এবং মিরাজকে পারফর্ম করতে হবে।তামিম যেহেতু জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে পছন্দ করেন তাই নিউজিল্যান্ড সিরিজে তাঁর কাছে ভালো কিছুর প্রত্যাশা অবশ্যই থাকবে। নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট ও বাউন্সি উইকেটে ধৈর্য ধরে উইকেটে থাকলে  লিটনও ভালো কিছু করবেন।আর অভিজ্ঞ মুশফিকের পারফরম্যান্স ছাড়া নিউজিল্যান্ডে ম্যাচজয় প্রায় অসম্ভব একথা বলাই যায়।বল হাতে মোস্তাফিজ, তাসকিন,আল-আমিন লাইন লেংথ ধরে রাখলে সফল হবেন একথা বলাই যায়।তবে নিউজিল্যান্ডের মাঠে কোনভাবেই কিউই ব্যাটসম্যানদের প্রথমদিকে বাজে বল নাদেয়ার চেষ্টা করতে হবে। কিউই ব্যাটসম্যানরা নিজদেশে খুবই ভয়ংকর। কোনকোন কিউই  টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান পাঁচ থেকে দশ ওভার উইকেটে থাকলে যেকোন ওয়ানডে বা টিটুয়েন্টি ম্যাচকে  মুঠোয় নিতে সক্ষম। কিউই ব্যাটসম্যানদের মধ্যে টাইমিং ও কবজির জোর প্রয়োগ করে শট খেলার প্রবণতা বেশি এক্ষেত্রে তাই বাজে বলের হার অধিক হলে তাদের জন্য সুবিধাজনক।

বাংলাদেশ ভালো করবে,যদি

বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড সফরে ভালো করবে একথা অনুমান করা অবশ্যই অত্যুক্তি নয়।তবে 'যদি, কিন্তু ' এই শব্দগুলো এই সফরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। নিউজিল্যান্ডের উইকেটে অলরাউন্ডারদের পারফরম্যান্স সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ।তাই টাইগারদের ভালো কিছু করতে হলে মাহমুদুল্লাহ,মিরাজ, সাইফুদ্দিনকে ভালো পারফর্ম করতেই হবে। মুশফিক যদি রানে থাকেন তাহলে বাংলাদেশের ব্যাটিং অনেকটাই সহজ হবে। তাছাড়া লিটন,নাঈম শেখ,শান্তদের টেকনিকের পরীক্ষা দিতে হবে এই সিরিজে।ফলে বাংলাদেশের টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের অনেক দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। টাইগার পেসারদের বোলিংয়ে সর্তকতা ও বিচক্ষণতা থাকতে হবে।

নিউজিল্যান্ডের বাউন্সি উইকেট

ঐতিহাসিকভাবে নিউজিল্যান্ড ও অষ্ট্রেলিয়ার উইকেট তুলনামূলকভাবে অধিক বাউন্সি এবং উইকেটে গতি বেশি। উপরন্তু নিউজিল্যান্ডের পেস অ্যাটাক এ মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা। গতি ও বাউন্সি উইকেটে বাংলাদেশসহ এশিয়ার অধিকাংশ ব্যাটসম্যানের দুর্বলতা রয়েছে। আর এধরণের উইকেটে স্ট্রোকমেকাররা সাধারণত  ভালো খেলে থাকেন।অবশ্য  এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য সুখবর হচ্ছে বাংলাদেশের টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের প্রায় সবাই স্ট্রোক খেলতে পছন্দ করে। তামিম, লিটন , মাহমুদুল্লাহ,শান্ত স্ট্রোকপ্লে খেলতে স্বাছন্দ্ বোধ করেন। এসবের বাইরে বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে এই মুহূর্তে একটি সমীহ জাগানো দল। যদিও এই সিরিজে দেশসেরা দুই ওয়ানডে প্লেয়ার মাশরাফি ও সাকিব দলে নেই তবু এই দলটিকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।এই সিরিজে  ব্যাটসম্যানদের পাশাপাশি মোস্তাফিজ, তাসকিন,মিরাজ ও সাইফুদ্দিনের বিচক্ষণ বোলিং গুরুত্বপূর্ণ। অধিনায়ক তামিমকে অবশ্যই একাদশ সিলেকশনে নিজের স্ট্র্যাটেজিকে গুরুত্ব দিতে হবে।হয়তো তিন পেসার নিয়ে নামলেন কিন্তু মাঠে গিয়ে সেটি ভুল প্রমাণিত হলো তাই নিজস্ব শক্তির জায়গা বুঝে একাদশে দিতে হবে।যেমন বিশেষত ওয়ানডেতে সাইফুদ্দিন বা সৌম্যকে পেসার হিসেবে খেলানো ঠিক কেমন হবে সেটিও ভাবতে হবে।কারণ শুধু পেসার হিসেবে খেলানো হলে এদের উপর বাড়তি চাপ থাকবে। টিটুয়েন্টিতে বাংলাদেশের সাফল্য ব্যাটিং অলরাউন্ডারদের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করবে।

পেসারদের দায়িত্ব বেশি

যদিও ফাস্ট ও বাউন্সি উইকেটে শুধু গতি বা নিয়ন্ত্রিত গতির বোলিং দিয়ে আপনি সবকিছু পারবেন না। সাকিবের অনুপস্থিতিতে মাহমুদুল্লাহ, মিরাজের স্পিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে। মিরাজ যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করা ব্যাটিং ধরে রাখতে পারে তাহলে বাংলাদেশের জন্য যেকোন কিছুই সম্ভব।তবে সবকিছুর পর বিশেষজ্ঞদের মতকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং সেক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের পেসারদের জ্বলে উঠতে হবে।অর্থাৎ এই সফরে টাইগারদের সফলতা ব্যাপকভাবে মোস্তাফিজ, তাসকিন , রুবেল হোসেন, আল-আমিনদের ভালো বোলিংয়ের উপর নির্ভর করবে।

টপঅর্ডারের ধৈর্য ও টেকনিক

করোনার দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের কিছু জড়তা হয়তো এখনো রয়েছে।তবে উইন্ডিজ সিরিজে বর্তমান টিমের প্রায় সব ব্যাটসম্যান মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন তাই বলা যায় নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ভালো করবেন। এছাড়া বাংলাদেশ দলে রয়েছেন এই সময়ে দেশের সেরা দুই ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল এবং মুশফিকুর রহিম। মাহমুদুল্লাহ ব্যাপক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। তাছাড়া বর্তমান টিমের লিটন দাস,নাঈম শেখ , মিঠুনের মধ্যে সেট হয়ে গেলে ম্যাচজয়ী ব্যাটিংয়ের সামর্থ্য রয়েছে। নিউজিল্যান্ডে ভালো করার জন্য টাইগার টপঅর্ডারের ক্ষেএে টেকনিক, ধৈর্য ও স্ট্রোকপ্লে হবে মূল শক্তি।

সাকিবের বিকল্প

বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান।আর তাঁর বিকল্পতো বলে কয়ে পাওয়া যাবে না তাই নিউজিল্যান্ড সিরিজে সাকিবের অনুপস্থিতিতে দলে একাধিক অলরাউন্ডার খেলাতে হবে। নিঃসন্দেহে সাকিব বাংলাদেশ টিমের এক দারুণ প্রেষণা। কিন্তু তিনি যেহেতু এই সফরে দলে নেই তাই বাংলাদেশ দল একজন বিশ্বসেরা স্পিনার এবং একই সাথে একজন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে মিস করবে ।আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচিত হবে শুধু সাকিবের বিকল্প হিসেবে একজন বাড়তি অলরাউন্ডার একাদশে রাখা।অবশ্য বিদেশে মাহমুদুল্লাহর রেকর্ড ভালো এবং এই সফরে এটি টাইগার ম্যানেজমেন্টের জন্য স্বস্তির বিষয়। সাকিবের অনুপস্থিতিতে সৌম্য সরকারও এই সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ার হতে পারেন কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক অফফর্মের কথা আসলে কিছুটা সংশয় থেকেই যায়।

তবু বাংলাদেশের সম্ভাবনা রয়েছে

নিউজিল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশের জন্য কিছু চিন্তার বিষয় রয়েছে যেমন এই মুহূর্তে নিউজিল্যান্ড টিমের ফর্ম খুবই ভালো যাচ্ছে। উপরন্তু বর্তমান কিউই পেস অ্যাটাকে বেশকিছু দুর্দান্ত প্লেয়ার রয়েছে।এবং বর্তমান কিউই টপঅর্ডারে একাধিক বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান রয়েছেন। বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজে আশার বিষয় হলো ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই দলটি এখন বেশ সমীহ জাগানো অবস্থানে রয়েছে। তাছাড়া টাইগার স্কোয়াডে বেশকিছু মেধাবী অলরাউন্ডার রয়েছেন এবং এদের কেউ কেউ প্রায় একাই যেকোন ম্যাচকে নিয়ন্ত্রণ করার সামর্থ্য রাখেন।কাটার মাষ্টার মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশের বড় এক শক্তি। মোটামুটি এসবকিছু মিলে এই সফরে বাংলাদেশটিমের সাফল্যের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।তবে এই সফরে বাংলাদেশ দলকে ভালো কিছু পেতে হলে সবকিছুর আগে দরকার ভালো টিম কম্বিনেশন, ভালো ব্যাটিং, ভালো ফিল্ডিং এবং সম্ভাব্য সেরা একাদশ নিয়ে মাঠে নামা।

বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড রেকর্ডচিএ ও ম্যাচসূচি

ওয়ানডে


বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে মোট ৩৫টি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে বাংলাদেশ ১০টি ম্যাচে জয় পেয়েছে এবং নিউজিল্যান্ড ২৫টিতে জয়ী হয়েছে।

টিটুয়েন্টি

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে ৭টি টিটুয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে ৭ম্যাচেই বাংলাদেশ পরাজিত হয়েছে।

নিউজিল্যান্ড সিরিজের সূচি

১ম ওয়ানডে - ২০ মার্চ - (ডানেডিন)
২য় ওয়ানডে - ২৩ মার্চ - (ক্রাইষ্টচার্চ)
৩য় ওয়ানডে - ২৬ মার্চ - (ওয়েলিংটন)
১ম টিটুয়েন্টি - ২৮ মার্চ -(হ্যামিল্টন)
২য় টিটুয়েন্টি - ৩০ মার্চ - (নেপিয়ার)
৩য় টিটুয়েন্টি - ১এপ্রিল-(অকল্যান্ড)

বাংলাদেশ স্কোয়াড

তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, তাসকিন আহমেদ, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন, আল-আমিন হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, নাঈম শেখ,আফিফ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ,শেখ মেহেদি হাসান, রুবেল হোসেন,নাসুম আহমেদ, নাজমুল হোসেন শান্ত।