WHAT'S NEW?
Loading...

চট্টগ্রাম টেস্টে টাইগারদের পরাজয়ের পর

                                               

প্রিয় ক্রিকেট ডটকমঃ লেখাটি শুরুর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ওয়ানডে  সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার জন্য টাইগার ওয়ানডে দলকে অভিনন্দন  জানাচ্ছি। এবং স্বীকার করছি ওয়ানডেতে বাংলাদেশ অসাধারণ ক্রিকেট উপহার দিয়েছে।তবে এই লেখাটি শুধুই চট্টগ্রাম টেস্ট নিয়ে। চট্টগ্রাম টেস্টে পঞ্চম দিন ছাড়া বাকিটুকু বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে ছিল।কিন্তু শেষদিনের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ এই টেস্ট হেরে গেল।সাকিব ইনজুরিতে পড়ায় উইন্ডিজ টিম পুরোপুরি সুযোগ নিয়েছে। মায়ার্সকে লাইফ দিয়ে বাংলাদেশ ভালো খেসারত দিয়েছে। আসুন চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের পরাজয়ের কারণগুলো দেখে নিই।

টাইগার ব্যাটসম্যানদের তবু ধন্যবাদ

চট্টগ্রাম টেস্টে করোনার দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা প্রত্যাশার চেয়ে ভালো খেলেছে এটুকু স্বীকার করতে হচ্ছে। এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করোনা পরবর্তী এ-ই টেস্টে টাইগারদের ব্যাটিং আশাব্যঞ্জক ছিল। তবে প্রায় চারশ রানের টার্গেট চেজ করে চতুর্থ ইনিংসে  উইন্ডিজকে জয়ের পথে নিয়ে যান তরুণ ব্যাটসম্যান মায়ার্স।অবশ্য মায়ার্সকে বাংলাদেশের ফিল্ডাররা লাইফ দিয়েছেন যা খুব দৃষ্টিকটু ছিল।অধিনায়ক মুমিনুল হক দারুণ ব্যাটিং করেছেন।মিরাজ ভালো ব্যাট করতে পারেন একথা চট্টগ্রাম টেস্টে বুঝা গেল তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি দেখে।এবং দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের সময় মিরাজ এমন একটি ইনিংস খেলেছেন সেজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মোটকথা চট্টগ্রাম টেস্টে টাইগারদের ব্যাটিং নিয়ে কোন অনুশোচনার সুযোগ  নেই।

টেস্টস্কোয়াড নিয়ে জিজ্ঞাসা আছে

চট্টগ্রাম টেস্টে টাইগার শিবিরে আসলে কিছু দুর্ভাগ্য ভর করেছিল।হঠাৎ সাকিব ইনজুরিতে পড়ায় বাকি বোলারদের উপর বাড়তি চাপ ছিল।আর এখানে একটি কোয়েশ্চন থেকে যায় স্কোয়াড নিয়ে। এক পেসার নিয়ে বাংলাদেশ কি সঠিক  কাজটি করেছে?  নাকি বাংলাদেশ উইন্ডিজ টিমকে কিছুটা হালকা ভাবে নিয়েছিল?বাংলাদেশ নাইম বা তাইজুলের পরিবর্তে তাসকিন,রাহি বা ইবাদতের একজনকে নিলে বরং ভালো করতো।যদিও সিলেক্টররা সেটি করেননি।তাছাড়া শান্তর পরিবর্তে সৌম্য সরকার বা মাহমুদুল্লাহ দলে থাকলে একজন বাড়তি বোলার পাওয়া যেত।তাইজুল বা নাইম একজনকে বিশ্রামে রাখা যেত।টেস্টে একজন পেসার নিয়ে মাঠে নামা কোন অর্থেই যুক্তিযুক্ত ছিল না এবং চট্টগ্রাম টেস্টের পঞ্চম দিন অধিনায়ক মুমিনুল নিশ্চয় এটি বুঝতে পেরেছেন। টেস্টে সেট ব্যাটসম্যানের উপর পেসবোলিংয় দিয়ে চাপ প্রয়োগের কৌশলটি সম্ভবত সিলেকটরদের ভাবনায়ও ছিল না।

মাহমুদুল্লাহর বিকল্প ছিল না

বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।তাছাড়া তাঁর স্পিন দেশের উইকেটে খুব কার্যকর।তবে ব্যাট হাতে বাজে ফর্মের জন্য্ মাহমুদুল্লাহকে টেস্ট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।কিন্তু আমাদের কোয়েশ্চন হচ্ছে  চট্টগ্রাম টেস্টে মাহমুদুল্লাহর বিকল্প কে ছিলেন।শান্তর পরিবর্তে সৌম্যকে টেস্টে রাখলে বাংলাদেশ চট্টগ্রাম টেস্টে অন্যরকম কিছুও হয়তো করে ফেলতো।এসবের সাথে বড় জিজ্ঞাসা হলো টেস্টে  স্পিননির্ভর দল করলে ব্যাটিংয়ে বাড়তি নজর দেয়ার কথা আমরা ভুলে গেলাম কেন।তবে এ যুক্তি খন্ডন করা যায় যেহেতু চট্টগ্রাম টেস্টে সিনিয়র  ব্যাটসম্যানরা ভালো করেছেন।কিন্তু বোলিংয়ে চোখ দিলে খটকা লাগে কারণ সাকিবের অবর্তমানে তাইজুলের সাথে রিয়াদের স্পিন বা সৌম্যের মি্ডিয়াম পেস  হলে হয়তো ম্যাচের ফল অন্যরকমও হতে পারতো।

ক্যাস মিস মানে ম্যাচ মিস

 যেকোন পর্যায়ের ক্রিকেটে ক্যাচ মিস বা টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানকে লাইফ দেয়া মানে ম্যাচে নিজেকে ব্যাকফুটে ফেলে দেয়া।আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো পেশাদার ক্রিকেটটিমের কোন টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানকে লাইফ দিলে ম্যাচ হাতছাড়া হবেই। চট্টগ্রাম টেস্টে  মায়ার্সকে আউটের সুযোগ মিস করেই বাংলাদেশ আসলে ম্যাচে হেরে গেছে।অবশ্য করোনার দীর্ঘ বিরতির ছাপ এমনকিছু বিপওি ঘটাতে পারে তবে ভবিষ্যতে এমনটা কাম্য নয়।টেস্ট ক্রিকেটে ফিল্ডিংয়ের ছোট ভুল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।কারণ এখানে আপনি ব্যাটসম্যানকে সহজে আউট করার সুযোগ পাবেন না।এখানে হাফ চান্সকে ফুল চান্সে পরিণত করলে তবেই সাফল্য আসবে।মায়ার্স বয়সে তরুণ কিন্তু ব্যাট হাতে নিজের জাত ঠিকই চেনালেন।আর মায়ার্সের কাজকে সহজ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো দেশের পরিচিত মাঠে ফিল্ডিংয়ে ভুল অবশ্যই দৃষ্টিকটু।

চার স্পিনার নিয়ে কথা

চট্টগ্রাম টেস্টে আমরা দেখলাম বাংলাদেশ চার স্পিনার নিয়ে নেমেছে।সাকিব,মিরাজ,তাইজুল এবং  নাইম।পেসার শুধু মোস্তাফিজ। সাকিব অলটাইম চয়েজ হিসেবে ছিলেন তবে ইনজুরির কারণে প্রয়োজনের সময় মাঠে নামতে পারেননি।।তাইজুল অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত পারফরমার হিসেবে ছিলেন।মিরাজ অলরাউন্ডার হিসেবে দলে ছিলেন এবং ব্যাট হাতে কার্যকর একটি সেঞ্চুরি করেছেন।নাইমকে স্পেশালিষ্ট স্পিনার হিসেবে নেয়া হয়েছিল।নাইম কোন কোন ওভারে ভালো টার্ন পেয়েছেন।তবে প্রয়োজনের সময় কাজের কাজ অর্থাৎ উইকেট ফেলতে ব্যর্থ হন।এখানে নাইম বা তাইজুলের একজনকে বিশ্রাম দিয়ে একজন পেসার খেলানো উচিত ছিল। 

ব্যাটসম্যান মুমিনুলকে ধন্যবাদ


অধিনায়কত্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের  সেরা টেস্টব্যাটসম্যান মুমিনুল হোক চট্টগ্রাম টেস্টে সেঞ্চুরির(ক্যাপটেনস নক) মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যান।এজন্য মুমিনুলকে ধন্যবাদ দিতেই হচ্ছে। মুমিনুল চট্টগ্রামে সেঞুরির মধ্যদিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের দশম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন।বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে  সর্বাধিক সেঞ্চুরির মালিক এখন মুমিনুল হক।তামিম ইকবাল টেস্টে ৯টি সেঞ্চুরি করেছেন।বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে টেস্টে সর্বাধিক রান মুশফিকুর রহিমের (৭টি শতকসহ ৪৪৬৯ রান)।

চট্টগ্রামে যেকারণে হেরে গেলো বাংলাদেশ 

চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের টিম সিলেকশন ভুল ছিল।এক পেসারনির্ভর টেস্ট স্কোয়াড দেয়া মোটেও সঠিক ছিল না।টেস্ট দলে মাহমুদুল্লাহকে রাখা উচিত ছিল।তাহলে একজন বাড়তি স্পিনার নেয়ার প্রয়োজন পড়তো না এবং আরো একজন পেসার অনায়াসে স্কোয়াডে রাখা যেত।এমনকি সৌম্য বা সাইফুদ্দিনকে রাখলেও কাজ হতো।শান্তর পরিবর্তে এদের একজনকে টেস্টে সুযোগ দিলে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি একজন বাড়তি বোলারকে পাওয়া যেত।তখন মোস্তাফিজের সাথে আরো একজন পেসার খেলানো যেত।টেস্টক্রিকেট অনেকটাই  ধৈর্য ও কৌশলের খেলা এবং পেসাররা এই কৌশলের মধ্যে অনেকটা ঝোড়ো হাওয়ার মতো কাজ করেন। একজন চৌকস পেসার  টেস্ট ম্যাচের গতিপথ মুহূর্তে পাল্টে দিতে পারেন।এজন্য টেস্টে একাধিক পেসার নেয়ার রীতি চালু রয়েছে।চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশ সেই নিয়মের ব্যতিক্রম করেছে।চট্টগ্রাম টেস্টে কাইল মায়ার্স যখন  সেট হয়ে গেলেন এবং লাইফ পেলেন তখন মুমিনুলের হাতে আরেকজন পেসার থাকলে ম্যাচ অন্যদিকে মোড় নিতে পারতো।একাধিক পেসার থাকলে পঞ্চম দিন  টির আগে বাংলাদেশ দ্রুত আরো কিছু উইকেট ফেলতে পারতো কিংবা উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের উপর আরো বেশি চাপ তৈরি করতে সক্ষম হতো।মোস্তাফিজের সাথে তাসকিন,রাহি বা ইবাদতের একজন দলে থাকলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের গতিও থামানো যেত।চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের বোলাররা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের গতি থামাতে ব্যর্থ হয়এবং এটি এ টেস্টে টাইগারদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ।অথচ চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশ  দারুণ একটি টার্গেট দিয়েছিল।এবং চট্টগ্রাম টেস্টে চতুর্থ দিন শেষেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে ছিল।মূলত পঞমদিন ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে চলে যায়।

লিখেছেনঃপ্রভাকর চৌধুরী