WHAT'S NEW?
Loading...

ভারতীয় ক্রিকেটের একাল সেকাল

                                                        


বলা হয় ক্রিকেটের জনপ্রিয় দলগুলোর শীর্ষে ভারতের অবস্থান।আর এক্ষেএে অবশ্য সঙ্গত কারণগুলো অস্বীকার করার উপায় নেই। ইতিহাস থেকে দেখা যায় ভারতীয় ক্রিকেটে কখনো তারকা খেলোয়াড়ের অভাব ছিল না।সেই সুনীল গাভাস্কার,কপিল দেব তারপর ক্রিকেটের লিটলমাষ্টার শচীন টেন্ডুলকার থেকে হালের বিরাট কোহলি,রোহিত শর্মার মত তারকাদের দেখা মেলে ভারতীয় ক্রিকেটে। অর্থাৎ ভারতের ক্রিকেটে তারকার ছড়াছড়ি এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও আরো কিছু ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে এই ক্রিকেটখেলুড়ে দেশটির।যেমন ফিল্ডিংয়ে চিরকালের দুর্বলতা।তবে সময়ের সাথে ভারতের ফিল্ডিংয়ের মান বেড়েছে।সৌরভ গাঙ্গুলী অধিনায়ক থাকাকালীন ফিল্ডিং বেশ দুর্বল ছিল যদিও সৌরভের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি উঠেছে।এম.এস.ধোনি আসার পরে অবশ্য অনেককিছু পাল্টেছে এই দলটির। আবার আইপিএল শুরুর পরে বেশকিছু নতুন পরিবর্তন ঘটেছে ভারতীয় ক্রিকেটে।ভারতীয় ক্রিকেটের বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চিএ নিয়েই এ লেখা।


ফ্ল্যাট উইকেটে সাফল্য বেশি

ভারতীয় ক্রিকেটের বহুকালের এক বদনাম ছিল বাউন্সি উইকেটে ব্যর্থতা।কারণ ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা ফাষ্ট ও বাউন্সি উইকেটে রান পেত না।ফলে দেশটি সবসময় ফ্ল্যাট ও স্লো উইকেটে খেলতে পছন্দ করে। যদিও কিছু কিছু ব্যাটসম্যান বাউন্সি উইকেটে সফল হয়েছেন। সুনীল গাভাস্কার,শচীন,দ্রাবিড়,রাহানে,কোহলি এরা কিন্তু বিদেশের বাউন্সি উইকেটে সফলতা পেয়েছেন। এছাড়া ফ্ল্যাট উইকেটে সাফল্য পাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল দলটিতে বিশ্বমানের স্পিনারের ছড়াছড়ি। ভারতীয় ক্রিকেটে অনিল কুম্বলে থেকে অশ্মিন,চাহাল পর্যন্ত কখনোই মেধাবী স্পিনারের সংকট ছিল না।ফলে ভারতের গেমপ্ল্যান,পিচ,একাদশ সবকিছু ছিল স্পিন নির্ভর।এছাড়া দলটিতে দক্ষ পেসারের চরম সংকট ছিল।জানা যায় এর ফলে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রকরা পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ লিগ ও ক্রিকেটে বাউন্সি উইকেটে মনোযোগী হন।তারপর থেকে দলটিতে সামি,বুমরাদের মত গতি তারকার আর্বিভাব ঘটে। এবং এখনতো ভারতের পেস আক্রমণকে বিশ্বের সেরা পেস আক্রমণ হিসেবে ভাবা হয়।তবু দেশের মাটিতে ভারতের আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোতে ফ্ল্যাট উইকেটকে প্রাধান্য দেয়া হয়।আর এর পেছনে বড় কারণ অশ্মিন,জাদেজাদের মত বিশ্বমানের স্পিনারের ছড়াছড়ি। এসবের বাইরে বলা যায় যারা হরভজন সিং,অশ্মিন,জাদেজার ঘূর্ণিজাদু একবার দেখেছেন তারা বারবার ফ্ল্যাট উইকেটে ভারত খেলুক তেমনকিছুই চাইবেন।

বাউন্সি উইকেটে দুর্বলতা পুরনো

ভারতের ব্যাটসম্যানদের বাউন্সি উইকেটে দুর্বলতার বদনাম আছে । সেই সৌরভ গাঙ্গুলীর সময়থেকে এই বদনাম ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গী।তবু এর ভেতরে শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়,কোহলির মত কিছু ব্যাটসম্যান এই বদনাম গোছাতে পেরেছেন। এছাড়া নতুনদের অনেকেই বাউন্সি উইকেটে ভালো করছেন।অবশ্য আইপিএলের বদৌলতে নতুনদের অনেকেই ফাষ্টবোলারদের বিপক্ষে সাবলিল ক্রিকেট খেলছেন।বীরেন্দর শেবাগের মত হাডহিটারদের হাত ধরে ফাষ্টবোলিংয়ের বিপক্ষে সাবলিল হবার সুযোগ পায় ভারতের ব্যাটিং।অবশ্য শচীনের অবদান এক্ষেত্রে স্মরণযোগ্য।দ্রাবিড়ও বাউন্সি উইকেটে সফলতা দেখিয়েছেন।ধীরে ধীরে ভারতীয় ব্যাটসম্যান এবং বোলাররা বাউন্সি উইকেটে মানিয়ে নিতে শিখছেন।

স্পিননির্ভর দল

বিশ্বক্রিকেটে স্পিননির্ভরতার জন্য বিখ্যাত ভারতীয় ক্রিকেট। যদিও এশিয়ার প্রায় সব বড় ক্রিকেট শক্তি স্পিনের উপর অধিক নির্ভরশীল।শ্রীলংকা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং হালের আফগানিস্তান অনেকাংশে স্পিনের উপর নির্ভরশীল। পাকিস্তানে অবশ্য সবসময়ই মেধাবী পেসারদের সন্ধান পাওয়া যায়।তবে এই সময়ে এশিয়ার সেরা পেস অ্যাটাক ভারতের একথা সব ক্রিকেট বোদ্ধা স্বীকার করেন।সামি,বুমরা আর ইশান শর্মার সমন্বয়ে গড়া পেস অ্যাটাক এখন শুধু এশিয়া নয় ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এক পেস অ্যাটাক। তবু এসবের সাথে ভারতীয় স্পিনজাদু ভুলে যাবার কোন সুযোগ নেই।কারণ অশ্মিনের বলের ঘূর্ণি কিংবা চাহালের লেগব্রেক সব ব্যাটসম্যানের জন্যই এক আলাদা ভাবনার বিষয়। এবং ভারতের স্পিনাররা সবধরণের উইকেটে সাফল্য লাভের সামর্থ্য রাখেন। ভারতীয় স্পিনারদের মত এতো চমৎকারভাবে বলের নিয়ন্ত্রণ  বিশ্বের খুব কম স্পিনারই জানেন। ক্রিকেটবোদ্ধারা জানেন যে একজন স্পিনারের বড় গুণ হচ্ছে বলের টার্ন, সঠিক জায়গায় বল ফেলার ক্ষমতা ও ব্যাটসম্যানের দুর্বলতা বুঝার ক্ষমতা। আর এসব গুণ সবচেয়ে ভালোভাবে ভারতীয় স্পিনারদের মধ্যে দেখা যায়। 

দুর্বল ফিল্ডিং

একসময় ভারতের ক্রিকেটে বড় দুর্বলতা ছিল ফিল্ডিং।তবে যুবরাজ সিং,মো:কাইফ,রায়না,কোহলিদের হাত ধরে এখন ভারতের ফিল্ডিং বিশ্বমানের হয়ে উঠেছে। দুর্বল ফিল্ডিংয়ের জন্য একসময় ভারতের প্রচন্ড সমালোচনা হতো। এমনকি ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতার জন্য দলটির বহু কাঠখড় পোহাতে হয়েছে । গাঙ্গুলী অধিনায়ক হবার পর ভারতের জাতীয় দলে বেশকজন ভালো ফিল্ডারের আগমন ঘটে। মোঃ কাইফ, যুবরাজ সিং,সুরেশ রায়না এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য নাম। কাইফের দুর্দান্ত ফিল্ডিং ভারতীয় দলের জন্য সত্যিই অন্যরকম এক বিষয় ছিল। এছাড়া যুবরাজ সিং এবং সুরেশ রায়না অসাধারণ ফিল্ডিংয়ের জন্য বিখ্যাত। পরবর্তীতে বিরাট কোহলি,রবীন্দ্র জাদেজাও দুর্দান্ত ফিল্ডিং করে নজর কাড়েন।এখন অবশ্য ভারতের ফিল্ডিংয়ের মান অনেকগুণে বেড়েছে। ভারতীয় দলের উঠতি প্লেয়ারদের মধ্যে ফিটনেস সচেতনতা বেড়েছে।

বিদেশে ব্যর্থতা; পুরনো অভিযোগ

বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দলের একটি ভারত।ভারতের ব্যাটিং, বোলিং,ফিল্ডিং তিন ক্ষেএেই বিশ্বসেরা প্লেয়ারের ছড়াছড়ি। ভারতের ব্যাটিং লিজেন্ড বিরাট কোহলি এই সময়ের ক্রিকেটবিশ্বে এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। অসাধারণ ধারাবাহিকতা আর সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি দিয়ে কোহলি ক্রিকেটের রেকর্ডবুকে ঝড় বইয়ে দিচ্ছেন।একসময় ভারতের লিটলমাষ্টার শচীন টেন্ডুলকার সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি করে ক্রিকেটের  খাতায় নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছেন।তবু এতোসব রেকর্ডের ভিড়ে   বিদেশের মাটিতে ব্যর্থতার বদনাম বহু আগে থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটের সাথে যুক্ত ছিল।আর এক্ষেত্রে  বিদেশের বাউন্সি উইকেটে ভারতের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হতো।তবে শচীন,দ্রাবিড়ের মত কিছু ভারতীয় ব্যাটসম্যান বিদেশেও সাফল্য পেয়েছেন। ধোনির অধিনায়কত্ব লাভের পর ভারত বিদেশের মাটিতে ব্যাটিংয়ের সফলতা লাভ করে। কোহলির হাতধরে ভারতীয় ব্যাটিং (বিশেষত ওয়ানডে, টিটুয়েন্টি) বিদেশে আরো সাবলিল হয়েছে।

তারকানির্ভর দল

বলা হয় ভারতের ক্রিকেট সবসময় তারকানির্ভর।কখনো কপিল দেব কখনো গাভাস্কার আবার কখনো শচীন,সৌরভ কিংবা কোহলিনির্ভর দল ভারত।দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড বা ওয়েষ্টইন্ডিজ,অষ্ট্রেলিয়া যেখানে পুরো টিমনির্ভর গেমপ্ল্যানে খেলে ভারত সেখানে তিনচারজন তারকাপ্লেয়ারের উপর নির্ভর করে খেলে।তবে এসব অভিযোগ পুরনো এখন এসব কমছে। বিরাট কোহলি ছাড়াও ভারত ভালো ফাইট দিচ্ছে।ইশান্ত শর্মা,সামিকে ছাড়াও মাঠে বেশ সাফল্য পাচ্ছে দলটি।একসময় শচীন টেন্ডুলকার ও রাউল দ্রাবিড়কে ছাড়া ভারতের ব্যাটিং লাইন ম্যাড়ম্যাড়ে লাগতো তবে পরবর্তীতে এ ধারা পাল্টে যায়।এখন লেট অর্ডারে ভালো ব্যাটসম্যান রয়েছে দলটিতে।২০২০ সালের শুরুতে অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে লেট অর্ডারের ব্যাটিং এক বিষয় ছিল। এছাড়া একসময় ভারতীয় পেসাররা ম্যাচ জেতাতে পারে এ কথা কেউ বিশ্বাস করতো না তবে বুমরা,সামিদের সময়ে একথা বলার সুযোগ আর নেই।তবে ভারতীয় ক্রিকেটে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে কখনো তারকা ক্রিকেটারের অভাব ছিল না। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর তালিকায় ক্রিকেটের তিন ফরমেটে শীর্ষ সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে ভারতীয়দের জয়জয়কার দেখা যায়।শচীন টেন্ডুলকার তিন মিলিয়ে ১০০ টি সেঞ্চুরি নিয়ে রয়েছেন সবার শীর্ষে।কোহলি করেছেন ৭০টি সেঞ্চুরি।দ্রাবিড়ের সেঞ্চুরি ৪৮টি। রোহিত শর্মা করেছেন তিন ফরমেট মিলিয়ে ৩৯টি সেঞ্চুরি।বীরেন্দর শেবাগের সেঞ্চুরি ৩৮টি।সৌরভ গাঙ্গুলী ৩৮টি সেঞ্চুরি করেছেন। সুনীল গাভাস্কারের ৩৫টি সেঞ্চুরি রয়েছে।

তারকা স্পিনারের দেশ

বলা হয় ভারত হচ্ছে স্পিন বোলারের খনি।কারণ এতো বেশি মেধাবী স্পিনার বিশ্বের আর কোথাও পাওয়া যায় না।অষ্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্নের গল্প বাদ দিলে বলা যায় ক্রিকেট ইতিহাসের সব সেরা স্পিনারই এশিয়া ও ভারতের।এক্ষেএে অবশ্য এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ফ্ল্যাট উইকেট এক মূল অনুসঙ্গ।ফ্ল্যাট উইকেটে স্পিনারদের জন্য বোলিং করা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।আর এরফলে ভারতীয় দলে কখনোই মেধাবী স্পিনারের অভাব ছিল না। ভারতীয় ক্রিকেটে সেই অনিল কুম্বলে থেকে হালের যুজবেন্দ্র চাহাল পর্যন্ত বহু মেধাবী স্পিনারের সন্ধান পাওয়া যায়।হয়তো ভবিষ্যতে আরো দারুণসব স্পিনার ভারতে তৈরি হবে। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর তালিকা অনুযায়ী ক্রিকেটের তিন ফরমেট মিলিয়ে শীর্ষ উইকেটশিকারি বোলারের মধ্যে একাধিক ভারতীয় স্পিনার রয়েছেন।অনিল কুম্বলে ক্রিকেটের তিন ফরমেট মিলিয়ে শীর্ষ উইকেটশিকারির  তালিকায় তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবে রয়েছেন।কুম্বলের তিন ফরমেট মিলিয়ে উইকেট সংখ্যা ৯৫৬টি। এছাড়া হরভজন সিংয়ের মোট উইকেট ৭১১টি।রবিচন্দন অশ্মিন মোট ৫৭৭টি উইকেটের মালিক।অশ্মিন এখধো খেলছেন তাই তাঁর উইকেট আরো বাড়বে বলে ধারণা করা যায়। রবীন্দ্র জাদেজা এই মুহূর্তে বিশ্ব তথা ভারতীয় ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ এক স্পিনার । জাদেজার মোট উইকেট সংখ্যা ৪৪৩টি।

বিশ্বকাপে সবসময়ই ফেভারিটের তকমা

ভারতীয় ক্রিকেটের আরেক সুনাম হলো বিশ্বকাপে সবসময় ফেবারিট হিসেবে শুরু করা। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ইতিহাসে ভারত সবসময় এক সমীহজাগানো দল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।এবং পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যায় শিরোপা জয় ছাড়াও ভারত বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে রেকর্ডসংখ্যকবার খেলেছে। এছাড়া বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত পারফর্মেন্স বিবেচনায় ভারতের প্লেয়ারদের অবস্থান সবসময়ই শীর্ষে।এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক সেঞ্চুরির(৫টি) রেকর্ড ভারতীয় ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মার। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সর্বাধিক রানের (২,২৭৮রান) মালিক ভারতের শচীন টেন্ডুলকার।এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের রূপকার(৬৭৩)ভারতের লিটলমাষ্টার শচীন টেন্ডুলকার। এসবই ক্রিকেটশক্তি হিসেবে ভারতকে স্বীকৃতি দেয়। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বাধিক সেঞ্চুরির (৬টি)রূপকারও  ভারতীয় ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকার এবং রোহিত শর্মা।  উল্লেখ্য ভারত একাধিকবার বিশ্বকাপ শিরোপাও জিতেছে । বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সর্বাধিক শিরোপা জয়ী অষ্ট্রেলিয়া(৫টি)।দুটি করে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শিরোপা জিতেছে ভারত ও ওয়েষ্টইন্ডিজ।


অসাধারণ ক্রিকেট অধিনায়কদের দেশ

ভারতীয় ক্রিকেটের কথা এরে বলতেই হয়ে ভারত ক্রিকেটে কিছু অসাধারণ অধিনায়ক পেয়েছে।যদিও আজহারউদ্দীন ম্যাচ পাঠানোর কলংকে নিজেকে জড়িয়েছেন।ভারতের অধিনায়কদের দিকে তাকালে দেখা যায় সেখানে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন এমএস ধোনি (২০০ম্যাচ),ধোনির নেতৃত্বে ভারত ২০০টি ম্যাচ খেলে ১১০টি ম্যচে জয়লাভ করেছে।ধোনির নেতৃত্বে ভারত একাধিক বিশ্বকাপ শিরোপাও জিতেছে। এবং বলা হয় সৌরভ গাঙ্গুলির হাত ধরে যে ভারতীয় দল নতুনভাবে নিজেদের মেলে ধরে ধোনির অধিনায়কত্বে সে দলটি এক ধাপ এগিয়ে  আধুনিক ক্রিকেট পরাশক্তি হিসেবে বিশ্বআসরে স্থান পায়।ভারতীয় ক্রিকেট দলকে ১৭৪টি ম্যাচে নেতৃত্ব দেন মোঃ আজহারউদ্দিন। আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বে ভারত ১৭৪টি ম্যাচের মধ্যে ৯০টিতে জয় পায়।সৌরভ গাঙ্গুলি ভারতকে বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন।ভারতীয় ক্রিকেটে এক নবজাগরণ ঘটে সৌরভের হাত ধরে।সৌরভ ১৪৬টি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দেন যেখানে ৭৬টি ম্যাচে জয়লাভ করে।রাউল দ্রাবিড় ভারতের অন্যতম সফল এক অধিনায়ক। দ্রাবিড়ের নেতৃত্বে ভারতীয় দল ৭৯ ম্যাচ খেলে ৪২টিতে জয়লাভ করে। ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক কপিল দেব।কপিল দেবের নেতৃত্বে ভারত  ৭৪টি ম্যাচ খেলেছে  যেখানে ৩৯ ম্যাচে ভারতীয় দল জয় পায়।বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ সময়ের বিশ্বক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আইকন বিরাট কোহলি। 

লিখেছেনঃপ্রভাকর চৌধুরী