WHAT'S NEW?
Loading...

ঘুরে আসুন লাউয়াছড়া

                                                                    



বাংলাদেশে ভ্রমণের সেরা সময় শীতকাল।সারাবছরের ব্যস্ততার মাঝে একটু শীতকালিন ভ্রমণ হতে পারে সারা বছরের  সঞ্জিবনী শক্তি। এছাড়া শীতকালিন ভ্রমণ এ অঞ্চলের পুরনো বৈশিষ্ট্য। উপরন্তু শীতকালিন ভ্রমণের স্বাস্থ্যগত উপকার বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।আর শীতে যাপিত জীবনের শত ব্যস্ততার ভিড়ে কিছু সময় প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চাইলে যেতে পারেন লাউয়াছড়ায়। সিলেট বিভাগের অন্তর্গত মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান অবস্থিত। প্রতিদিন শতশত পর্যটকের আনাগোনায় মুখর থাকে এই জাতীয় উদ্যান।আর শীতে মেঘ-কুয়াশার পাশাপাশি অরণ্যের সুবাস নিতে লাউয়াছড়া হতে পারে শ্রেষ্ঠ ভ্রমণগন্তব্য। নিশ্চিতভাবে বলা যায় শীতে ভ্রমণের তৃপ্তি মেটাতে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান আপনাকে দারুণ সহায়তা করবে।


লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান পরিচিত

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সিলেট বিভাগের অন্তর্গত মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে অবস্থিত। বিশাল বিশাল গাছ আর বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর কোলাহলে পূর্ণ এক প্রাকৃতিক পর্যটনস্পট এই লাউয়াছড়া। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের দূরত্ব প্রায় ১০কিলোমিটার।১৯৯৭সালে সরকার এই বনকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রায় ৪৬০প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। লাউয়াছড়ায় বিরল প্রজাতির বেশকিছু বৃক্ষের দেখাও পাবেন।

যা কিছু দেখা যাবে

শীতে মেঘ কুয়াশা আর রোদের মিশ্র প্রাকৃতিক পরিবেশে কিছু সময় কাটাতে চাইলে যেতে পারেন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে যখন লাউয়াছড়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন তখন অপূর্ব সুন্দর সব চাবাগানের দৃশ্য আপনাকে আনন্দ দেবে।চাবাগানগুলোর মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে আঁকাবাঁকা পথ যা দেখলে যে কারো  চোখ জুড়াবে।সারি সারি চাবাগান আর বনের ভেতর দিয়ে লাউয়াছড়ার পথে যতই আগাবেন ততই একধরণের ভিন্ন আনন্দ পাবেন। লাউয়াছড়ায় হয়তো এমন কিছু গাছ গাছালির দেখা পাবেন যা আগে কখনো নিজচোখে দেখা হয়নি এবং যা শুধু বইয়ের পাতায় কিংবা টিভিতে দেখেছেন। লাউয়াছড়া উদ্যানের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা রেলপথের পাশ দিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে ভালোই লাগবে। এছাড়া রেলপথ পেরিয়ে উদ্যানের ভেতর দিয়ে আঁকাবাঁকা পথে অরণ্যের ভেতরে বিভিন্ন পাখির ডাক শুনে  ঘন্টা দেড়েক হেঁটে  গেলে যেকারো ভালোই লাগবে। লাউয়াছড়া উদ্যানের বনের ভেতর প্রবেশের তিনটি পথ রয়েছে।যেকোন পথ ধরে বনের শেষ সীমানায় যেতে পারেন।তবে বনের ভেতর কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন তাই সবসময় সাবধান থাকতে হবে। বনের ভিতরে বিভিন্ন পশুপাখি চোখে পড়বে তবে ভুলেও এদের দিকে ঢিল ছুঁড়বেন না বা উচ্চঃস্বরে আওয়াজ করবেন না। লাউয়াছড়া বনের ভেতরে বেশ সুন্দর লেবুবাগান রয়েছে যা দেখলে ভিন্ন অভিজ্ঞতা হবে।


ফিরতি পথে  সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা

লাউয়াছড়া ভ্রমণের পর ফিরতি পথে শ্রীমঙ্গল শহরের পাশে সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানায় ঘুরে যেতে পারেন।সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন নামে পরিচিত। বইয়ে পড়া বিভিন্ন পশুপাখি দেখতে পারবেন এই চিড়িয়াখানায়। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে রিকশায় সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানায় মেতে ১৫থেকে ২০ মিনিট সময় লাগবে।সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানায় বাঘ,ভাল্লুক,অজগর,সঙ্কিনী সাপ,কচ্ছপ, কাঠবিড়ালী,ধনেশসহ বিভিন্ন পশুপাখির দেখা পাবেন। নিরিবিলি পরিবেশে চিড়িয়াখানায় কিছু সময় কাটাতে পারেন।তবে সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানায় প্রবেশের জন্য টিকেট ক্রয় করতে হবে।এই চিড়িয়াখানা সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকে।

কেন শীতে লাউয়াছড়া যাবেন

লাউয়াছড়া ভ্রমণের জন্য শীতে এক ভিন্ন ধরণের আনন্দ পাবেন। শীতে লাউয়াছড়া উদ্যানের প্রকৃতি এক ভিন্ন ছবি ধারণ করে। তাছাড়া পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় শীতে বৃষ্টির ঝামেলায় পড়তে হবে না।আর এসবকিছু বিবেচনায় শীতে শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া উদ্যান হতে পারে এক শ্রেষ্ঠ ভ্রমণ গন্তব্য। শীতে শ্রীমঙ্গলের পরিবেশ বেশ শীতল থাকে তাই ভ্রমণে এক অন্যরকম অনুভুতি পাবেন।

হোটেল রিসোর্ট

কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার আগে সেই এলাকার হোটেল রিসোর্ট সম্পর্কে আগাম জেনে নিতে হয়। শ্রীমঙ্গলে থাকা ও খাওয়ার জন্য বেশকিছু ভালোমানের হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে।রয়েছে কটেজ ও সরকারী রেষ্টহাউস। আপনার চাহিদা ও বাজেট অনুযায়ী যেকোন হোটেল বা রিপোর্টে উঠতে পারেন।তাছাড়া চাবাগান ঘেঁষা ইকো রিসোর্টগুলোতে উঠতে পারেন। 

কোথায় খাবেন

লাউয়াছড়া উদ্যানের পাশে খাওয়ার খুব ভালো কোন সুব্যবস্থা নেই।তাই ভালো খাবার পেতে চাইলে যেতে হবে শ্রীমঙ্গল শহরে। শ্রীমঙ্গল শহরে মানসম্মত খাবার পাবেন।

প্রবেশ টিকিট

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য (প্রাপ্তবয়স্ক জনপ্রতি ৫০টাকা  এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ও শিক্ষার্থী জনপ্রতি ২০টাকা)। এছাড়া বিদেশি পর্যটকদের জন্য প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫০০টাকা।গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য আপনাকে গুনতে হবে ২৫টাকা।ভ্রমণগাইড চাইলে নিতে পারবেন ।

যেভাবে লাউয়াছড়া যাবেন

বাংলাদেশের যেকোন স্থান থেকে বাস অথবা ট্রেনযোগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নামতে হবে।ঢাকা থেকে বাসে শ্রীমঙ্গল পৌঁছতে ৪ ঘন্টা সময় লাগবে। সিলেট শহর থেকে শ্রীমঙ্গল পৌঁছাতে ২ঘন্টা সময় লাগবে। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিএনজি অটোরিকশায় লাউয়াছড়া যেতে ২০ থেকে ২৫মিনিট সময় লাগবে।

লিখেছেনঃ প্রভাকর চৌধুরী