WHAT'S NEW?
Loading...

আদার যত গুণ

                                                         

প্রিয় ক্রিকেট ডটকমঃ আদা সবার কাছে প্রিয় এবং পরিচিত  এক মশলা। বিভিন্ন ধরণের খাদ্য তৈরির ক্ষেএে যেমন আদার ডাক পড়ে তেমনি এ মশলার মধ্যে প্রচুর পুষ্টিকর উপাদানও রয়েছে।ফলে আদা খাবারের স্বাদ যেমন বাড়িয়ে দেয় তেমনি সারাবছর শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে আদার তুলনা নেই। আদার বহুমাত্রিক গুণাগুণ নিয়েই এ লেখা(তথ্যসূএ:বাংলাহেলথ২৪)। 

আদার ব্যবহার

বিশ্বব্যাপী খাদ্যশিল্পে আদা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। আদাকে  খাদ্যশিল্পের এক অত্যাবশ্যকীয় মশলা বলা যায়।বিভিন্ন মুখরোচক খাবার তৈরিতে আদা ব্যবহার করা হয়। রন্ধনশিল্পে আদার চাহিদা ব্যাপক। পানীয় তৈরিতে আদার ব্যবহার হয়। বিভিন্ন ধরণের আচার তৈরিতে আদা ব্যবহ্নত হয়। ওষুধশিল্পে আদা ব্যবহ্নত হয়। সুগন্ধি তৈরিতে আদার প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

শরীরকে শীতল রাখে

যারা নিয়মিত আদা খান তাদের শরীর সবসময় শীতল থাকে। নিয়মিত আদা খেলে শরীর শীতল থাকে।

হার্ট ভালো রাখে

হার্টকে ভালো রাখার জন্য নিয়মিত আদা খেতে পারেন।রক্তের অনুচক্রিকা এবং হ্নদযন্ত্রের কার্যক্রম ঠিক রাখতে আদা খুব কার্যকর।

আদা ব্যথানাশক

হাড়ের বিভিন্ন ক্ষয়জনিত ব্যথায় আদা উপকারী। বিশেষত আথ্রাইটিস প্রভৃতি হাড়ের রোগে হাড়ের জোড়ায় ব্যথা হয় ।আর হাড়ের জোড়ার ব্যথায় আদা খেতে পারেন। এসবের বাইরে শরীরের যেকোন ধরণের ব্যথা প্রশমনে আদা উপকারী।তবে আদার গুণাগুণ পুরোপুরি পেতে চাইলে এটি কাঁচা অবস্থায় খেতে হবে।

মৌসুমী জ্বর, কাঁশিতে উপকারী

ঋতু পরিবর্তন জনিত বিভিন্ন রোগ যেমন জ্বর,কাঁশি, গলাব্যথা,মাথাব্যথায় আদা উপকারী। নিয়মিত আদা খেলে এসব মৌসুমী রোগব্যধি সহজে শরীরে প্রবেশ করতে পারে না। এছাড়া আদায় রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল  উপাদান যা শরীরের রোগ জীবাণু ধ্বংস করে।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

আদা আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।তাই শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে আদা খাওয়ার বিকল্প নেই।

ডায়াবেটিস,মাইগ্ৰেনে উপকারী

আদা শুধু মশলা হিসেবে কাজ করে তাই নয় সেই সাথে আদা মাইগ্ৰেনজনিত ব্যথা ও ডায়াবেটিস জনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা প্রশমনে সাহায্য করে।

রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে

নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে আদা খেলে শরীরের রক্তাসঞ্চালন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়।আদায় বিদ্যমান ম্যাগনেশিয়াম,জিংক প্রভৃতি শরীরের রক্তপ্রবাহের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে।

আমাশয়,জন্ডিসে উপকারী

আমাশয়ের সমস্যায়,জন্ডিস,পেটফাঁপা প্রভৃতি জটিলতায় আদার রস খুব উপকারী। এছাড়া গলা পরিষ্কার রাখতে আদা খুব কার্যকর।

শরীরের ক্ষত শুকাতে আদা

শরীরের কোথাও ক্ষত থাকলে তা দ্রুত শুকাতে আদা খুব কার্যকর। আদায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা কাঁটাছেড়া,ক্ষত দ্রুত ভালো করে।

মুখের রুচি বাড়ায়

আদা খেলে বদহজম দূর হয় এবং মুখের রুচি বেড়ে যায় তাই যারা মুখের রুচি নিয়ে চিন্তিত তাদের জন্য নিয়মিত আদা খাওয়া খুব উপকারী।

বমিভাব নিয়ন্ত্রণ করে

অনেকে যানবাহনে চলাফেরার সময়ে বমি করে থাকেন।আর বমিবমি ভাব দূর করার জন্য আদা খুব উপকারী। বমিভাব হলে কাঁচা আদা চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

ঠান্ডাজ্বরে আদা উপকারী

ঠান্ডাজ্বর ও ভাইরাসজনিত জ্বর প্রতিরোধে আদা খুবই উপকারী।আদার রস হালকা গরম করে সমপরিমাণ মধুর সাথে মিশিয়ে দিনে কয়েকবার খেলে ঠান্ডা জনিত জ্বর ও ভাইরাসজনিত জ্বরে উপকার পাওয়া যায়।

পেটের পীড়ায় উপকারী

পেটের পীড়া খুবই কষ্টদায়ক একটি সমস্যা।আর পেটের পীড়ায় বা পেটের অস্বস্তিতে আদা আদা একটি আদর্শ পথ্য।হজমে সহায়তার পাশাপাশি খাবারের গুণাগুণ শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে দিতে আদা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া পেটে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধে আদা উপকারী।

ফুসফুসের জন্য উপকারী

ফুসফুসের যেকোন সাধারণ সংক্রমণ বা রোগের ক্ষেত্রে আদা বেশ উপকারী।আদা সর্দিকাশি , শ্বাস-প্রশ্বাসের সাধারণ সমস্যা দূর করে।

আদা ওজন কমায়

যারা অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চিন্তিত তাদের জন্য আদা উপকারী।আদা আমাদের অতিরিক্ত খিদে নিয়ন্ত্রণে দারুণ ভূমিকা পালন করে।রোজ সকালে আদা কুঁচি লবণ মাখিয়ে খেলে অকারণ খিদে পাওয়া কমবে ফলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।গরম পানিতে আদা ফুটিয়ে খেলেও একই উপকার মিলবে।

ঝলমলে ত্বক, চুলের জন্য আদা

আদায় রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন তা আমাদের ত্বক ও চুলকে ঝলমলে এবং সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

প্রদাহ দূর করে

আদা খেলে শরীরের সমস্ত প্রদাহ কমে । বিশেষ করে বাতের ব্যথায় আদা একটি মহৌষধ। আদায় বিদ্যমান বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরের বাতের ব্যথা, পেশির ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

কোলেস্টেরল কমায়

আমরা জানি শরীর সুস্থ রাখতে রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই।আদা শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমায় ও ভালো কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয় এরফলে শরীরের  কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আদা মাংসপেশীর ব্যথা কমায়

ভারি ব্যয়াম বা জিমে যাওয়ার আগে আদা খেয়ে নিন। গবেষণায় দেখা গেছে আদা একটি প্রাকৃতিক ব্যথা উপশমকারী এবং প্রদাহরোধী উপাদান হিসেবে কাজ করে। ভারি ব্যয়াম বা জিমের পর শরীরে যে ব্যথা হয় তা আদা খেলে সেরে যায়।

নারীদের ঋতুস্রাবকালিন ব্যথা কমায়

আদার বহুমাত্রিক উপকারিতা আছে।আদা নারীদের ঋতুস্রাবকালিন ব্যথা প্রশমনে সাহায্য করে।

স্মৃতিশক্তি সংরক্ষণ করে

মস্তিষ্কের জন্য আদা খুব উপকারী। মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য নিয়মিত আদা খেতে পারেন।

সর্তকতা

আদার ব্যাপক উপকারী গুণের সাথে এর কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে।তাই কোন কোন ক্ষেত্রে আদা খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে তা জেনে নিন।

অন্তঃস্বত্ত্বা নারীর জন্য ক্ষতিকর

বিশেষজ্ঞরা বলেন অন্তঃস্বত্ত্বা অবস্থায় নারীদের আদা খাওয়া উচিত নয় কারণ অন্তঃস্বত্ত্বা অবস্থায় অতিরিক্ত আদা খেলে প্রিম্যাচিওর শিশু জন্মের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ওজন বাড়াতে চাইলে আদা নয়

যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য আদা উপকারী হলেও যারা ওজন বাড়াতে চান তাদের জন্য আদা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ আদা খিদে কমায় এছাড়া শরীরের চর্বি গলানোর প্রক্রিয়ায় আদা কার্যকর।

ডায়াবেটিসের ওষুধ খেলে আদা নয়

স্বাস্থ্যবিদদের মতে যারা ডায়াবেটিস,উচ্চরক্তচাপের ওষুধ খান তাদের জন্য আদা এড়িয়ে চলাই ভালো।