WHAT'S NEW?
Loading...

উইন্ডিজ সিরিজে টাইগারদের কাছে প্রত্যাশা

                                                               


করোনার জন্য বেশ দীর্ঘ বিরতির পর নতুন বছরের শুরুতে দেশের মাটিতে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আসর বসছে। নতুন বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে ওয়েষ্টইন্ডিজ বাংলাদেশ সফরে আসছে। সিরিজের সূচি প্রায় চূড়ান্ত।বায়োবাবল মেনে এই সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে।ওয়েষ্টইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ বরাবরই দর্শকদের আগ্ৰহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।কারণ উইন্ডিজ টিমে বেশকজন তারকা প্লেয়ার রয়েছেন। তাছাড়া ওয়েষ্টইন্ডিজের সাথে মাঠের ক্রিকেটে বাংলাদেশের বেশ জমাজমাট লড়াই হয়ে থাকে।আর এসবকিছু মিলে ওয়েষ্টইন্ডিজ-বাংলাদেশের খেলায় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যায়।উইন্ডিজ সিরিজে টাইগারদের কাছে কেমন ক্রিকেট চাই তা নিয়েই এ লেখা।


টাইগারদের ব্যাটিংয়ের মূল কান্ডারি

উইন্ডিজ সিরিজ বরাবরই বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য আলাদা এক আনন্দের বিষয়।আর করোনার পরে এরকম একটি বড় দলের বিপক্ষে আবার টাইগারদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু হচ্ছে ।ফলে সবার কাছেই এটি এক সুখবর।উইন্ডিজ সিরিজে ব্যাটবলের লড়াইয়ে টাইগারদের ব্যাটিংয়ের মূল দায়িত্ব থাকবে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মুমিনুল হক,মাহমুদুল্লাহ এবং লিটন দাসের কাঁধে। তামিম সবসময় দেশের মাটিতে সফল।এবং উইকেটে সেট হয়ে গেলে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের মধ্যে টেষ্ট ও ওয়ানডেতে বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য রয়েছে। মুশফিকুর রহিম উইন্ডিজ সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ কান্ডারি হতে পারেন।টেষ্ট ও ওয়ানডেতে টাইগারদের মিডলঅর্ডারের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান হচ্ছেন মুশফিক।ফলে উইন্ডিজ সিরিজে বাংলাদেশের সাফল্য অনেকটাই মুশফিকের ভালো ব্যাটিংয়ের উপর নির্ভর করবে।এই সিরিজ দিয়ে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবেন দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সাকিব ফেরায় ব্যাটিং ও বোলিং দুই ক্ষেএে বাংলাদেশ কিছু এক্সটা এডভান্টেজ পাবে।আর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে সাকিব টিমে থাকা মানে তরুণ ক্রিকেটারদের মনোবল বেড়ে যাওয়া।আমরা চাইবো উইন্ডিজ সিরিজে তরুণ প্লেয়াররা সাকিবের সঙ্গে জ্বলে উঠুক। মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে যত আলোচনা সমালোচনা হোক তবু বাংলাদেশের মিডলঅর্ডারে তাঁর যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে। এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো টেষ্ট কিংবা ওয়ানডেতে মাহমুদুল্লাহর উচিত তাঁর নিজের স্টাইলেই ব্যাটিং করা।সে সবসময় রানের মধ্যে থাকতে পছন্দ করে এবং টিম ম্যানেজমেন্টের উচিত তাকে সেই সুযোগ দেয়া।। এছাড়া মাহমুদুল্লাহ অকেশনাল স্পিনার হিসেবেও বেশ কার্যকর। মুমিনুল হক দেশের পরিচিত উইকেটে সেট হয়ে গেলে দারুণ কিছু করার সামর্থ্য রাখেন।লিটন দাসের ব্যাটিংয়ের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। তাঁর উপর নির্ভর করা যায়। লিটনের একটি দোষ হচ্ছে হুযড়োহুড়ি করে অতিআত্মবিশ্বাস থেকে উইকেট বিলিয়ে দেয়া।এখানে তাঁর উন্নতি করতে হবে।সাইফুদ্দিনকে সঠিক ভাবে কাজে লাগালে টেষ্ট ও ওয়ানডে দুই ক্ষেএেই ভালো কিছুর আশা করা যায়।তবে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে ভালো করার জন্য গতি,বাউন্স ও সুইং এই তিন বাধাকে অতিক্রম করতে হবে। ওদের স্পিন ডিপার্টমেন্টও বেশ ভালো।

টাইগারদের ব্যাটিংয়ে তরুণদের দায়িত্ব

ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজে বাংলাদেশের তরুণ ব্যাটসম্যানদের আরো দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে।টেষ্টে লিটন দাস ,সাদমান ইসলামদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। টেষ্ট ও ওয়ানডেতে নাইম শেখকে মিডলঅর্ডারে সুযোগ দেয়া যেতে পারে।নাইম শেখের মত প্রতিভাবান তরুণদের নিয়মিত খেলার মধ্যে রাখা উচিত।সৌম্য সরকারকে ওয়ানডেতে আরো দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে হবে। নতুন করে এই সিরিজে কাউকে একাদশে রাখার যুক্তি নেই।টেষ্টে মিরাজের বোলিং ও ব্যাটিংয়ে আরো উন্নতি প্রয়োজন।উইন্ডিজ সিরিজে সেইসব তরুণ ব্যাটসম্যানকে সুযোগ দেয়া উচিত যারা পেস ও বাউন্সে খেলতে পারবেন।কারণ এই সিরিজে কটরেল,রোচ,হোল্ডারের মত অভিজ্ঞ গতি তারকাদের মোকাবেলা করতে হবে। তাই সিরিজের আগে চাই সঠিক টিম সিলেকশন।তবে অভিজ্ঞ সাকিব দলে আছেন ফলে তরুণদের বেশ সুবিধা হবে।

পেসবলে দুর্বলতা দূর করতে হবে

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় ওয়েষ্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশ সফরে সাধারণত তাদের গতিতারকাদের প্রাধান্য দিয়ে থাকে।এবং বাংলাদেশের ফ্ল্যাট উইকেটে গতি ও বাউন্স দিয়ে অতীতে সফলতা পেয়েছে দলটি।শেলডন কটরেলের গতি ও সুইং বর্তমান উইন্ডিজ টিমের বড় শক্তি।কেমার রোচ একাদশে থাকলে সুইং ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং দিয়ে টাইগারদের গায়েল করার চেষ্টা করবেন। অতীতে রোচ বাংলাদেশ সফরে সাফল্য পেয়েছেন।উইন্ডিজ অধিনায়ক রোচকে ব্যবহারের ছক তৈরি করে আসবেন এটি আগেই আন্দাজ করা যায়। এছাড়া ওয়েষ্ট ইন্ডিজ টিমের বোলিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ কান্ডারি জেসন হোল্ডার।এই দীর্ঘদেহী পেসার বাউন্সি দিয়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে এদের যেকেউ বিপদজনক হয়ে উঠতে পারেন।তাই টাইগার ব্যাটসম্যানদের পেসবলের দুর্বলতা দূর করতে হবে।

টাইগারদের বোলিং

এই সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণে বাংলাদেশের বোলিং খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। টেষ্টে হয়তো অভিজ্ঞ পেসার মোস্তাফিজের সাথে আলআমিন,রুবেল, তাসকিন,রাহি,ইবাদত এদের যেকোন দুইজন সুযোগ পাবেন।টেষ্টে স্পিনার হিসেবে সাকিবের সাথে হয়তো তাইজুল থাকবেন।হয়তো উইন্ডিজ সিরিজে বাংলাদেশ স্পিননির্ভর দলও করতে পারে।এক্ষেএে সাইফুদ্দিনের সাথে দুই পেসার একাদশে থাকবেন।তবে বাংলাদেশের বোলিংয়ের মূল কান্ডারি হিসেবে অভিজ্ঞ স্পিনার সাকিব আল হাসানের উপর অনেককিছুই নির্ভর করবে।এই বাঁহাতি স্পিনার ফর্মে থাকলে বাকিদের জন্য কাজ সহজ হয়ে যাবে। টেষ্টে লেগস্পিনার খেলাতে চাইলে হয়তো বিপ্লব অলরাউন্ডার হিসেবে খেলতে পারেন।তবে ওয়েষ্টইন্ডিজ সিরিজে পেসবোলিংয়ের ক্ষেএে গতি ও সুইং বেশি কার্যকর হতে পারে।এক্ষেএে টেষ্টে মোস্তাফিজের  সাথে তাসকিনকে দলে রাখলে বেশি সুফল মিলবে। ওয়ানডেতে মোস্তাফিজের সাথে তাসকিন ও রুবেলকে নেয়া অধিক যুক্তিযুক্ত হবে। সাইফুদ্দিন পেসবোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে  টেষ্টও ওয়ানডেতে অটোমেটিক চয়েস হতে পারেন। ওয়ানডেতে সাকিবের সঙ্গে স্পিনার হিসেবে তাইজুল ,মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেনের যেকেউ একাদশে থাকতে পারেন। মোসাদ্দেক ফিনিশার হিসেবে ভালো সল্যুশন।টেষ্ট ও ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলিংয়ে অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দেয়া উচিত।আর ওয়েষ্ট ইন্ডিজের  মত দলের বিপক্ষে কমগতির বোলাররা সহজে সফলতা পাবেন বলে মনে হয় না কারণ দলটিতে বিগহিটারের সংখ্যা বেশি।তবে সবকিছুর পর টিমম্যানেজমেন্ট এসব বিষয়ে নিশ্চয় অবগত রয়েছেন।


সাকিবের ফেরা গুরুত্বপূর্ণ


বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে একজন সাকিব আল হাসান ভাইটাল বিষয়।গেমপ্ল্যান বা টিমে মনোবল বৃদ্ধিতে সাকিবের উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।ওয়েষ্ট ইন্ডিজ সিরিজে তাই সাকিব আল হাসান ফেরায় বাংলাদেশ ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে। সাকিব দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই সিরিজে মাঠে ফিরবেন এটি টাইগার ভক্তদের জন্যও একটি সুখবর।এই সিরিজে সাকিবের ব্যাটিং ও বোলিং হতে পারে টার্নিং পয়েন্ট। এবং এই দেশসেরা অলরাউন্ডার একাদশে স্থান পেলে বাকিরাও নিশ্চিতভাবে আত্মবিশ্বাস পাবেন। তাছাড়া করোনার কারণে ওয়েষ্টইন্ডিজ টিমও বিগত কয়েকমাস বিদেশ সফর করেনি ফলে উইন্ডিজ টিমও চাপে থাকবে। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর  টেষ্টের সর্বাধিক উইকেটশিকারিদের তালিকায় বাংলাদেশের শুধু সাকিব আল হাসানের নামই রয়েছে। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বাধিক উইকেটশিকারির তালিকায় বাংলাদেশের মাশরাফির পরেই সাকিবের অবস্থান।ফলে সাকিবের ফেরা এই সিরিজে বাংলাদেশের বড় এক সন্তুষ্টির বিষয়।

ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করতে হবে

ক্রিকেটে একটি কথা প্রচলিত আছে 'ক্যাচ মিসতো ম্যাচ মিস'।ওয়েষ্ট ইন্ডিজ সিরিজে বাংলাদেশের জন্য ভালো ফিল্ডিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের শক্তির এক মূল জায়গা ফিল্ডিং।ওয়েষ্ট ইন্ডিজ সিরিজে বাংলাদেশের জন্য এক টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে ফিল্ডিং।যদিও করোনার মধ্যে দুই ঘরোয়া টুর্নামেন্ট খেলার ফলে টাইগারদের ফিটনেসের ঘাটতি হয়তো দূর হয়েছে। স্মরণযোগ্য যে বাংলাদেশ টেষ্ট ও ওয়ানডেতে ইতিপূর্বে যেসব সাফল্য পেয়েছে এরমূলে টাইগারদের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের অবদান আছে।উইন্ডিজ সিরিজে সফলতার জন্য টাইগারদের অবশ্যই ভালো ফিল্ডিং করতে হবে।

অতি পরীক্ষা নিরীক্ষা নয়

ওয়েষ্ট ইন্ডিজ টিমের শক্তির জায়গা হচ্ছে পেস অ্যাটাকের সাথে বাউন্স ও গতির মিশেল।কটরেল,হোল্ডারদের গতি ও বাউন্স টাইগার ব্যাটসম্যানদের ভোগাবে।আর এক্ষেত্রে অভিজ্ঞদের সফলতার সম্ভাবনা বেশি।ফলে ব্যাটিংঅর্ডারে অতি পরীক্ষা নিরীক্ষা করা ইতিবাচক হবে বলে মনে হয় না।তবে নাইম শেখ,আফিফদের ক্ষেএে একথা সত্য নাও হতে পারে।কারণ নাইম শেখ ,আফিফের মত কিছু তরুণ ভালো করবেন বলেই ধারণা করা যায়। বোলিংয়ের ক্ষেএেও টাইগারদের উচিত হবে অভিজ্ঞদের গুরুত্ব দেয়া।বিশেষত অভিজ্ঞ মোস্তাফিজ,রুবেল,তাসকিনদের উপর আস্থা রাখতে হবে।ইবাদত ও রাহির যেকোন একজনকে টেষ্টএকাদশে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে টেষ্টে অভিজ্ঞ স্পিনার ও সিমারদের প্রাধান্য দেয়া।কারণ অতীতের উইন্ডিজ সিরিজ তেমনকিছুরই ধারণা দেয়।

বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেষ্ট রেকর্ড

বাংলাদেশ ও ওয়েষ্ট ইন্ডিজের মধ্যে ইতিপূর্বে ১৬টি টেষ্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।এর মধ্যে বাংলাদেশ ৪টেষ্টে জয় পেয়েছে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০টিতে জয়লাভ করেছে।এবং বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দুটি টেস্ট ড্র হয়েছে।

বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে রেকর্ড

বাংলাদেশ ও ওয়েষ্ট ইন্ডিজের মধ্যে ৩৭টি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।আর এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ১৪টিতে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ২১ ম্যাচে। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দুটি ওয়ানডে ম্যাচে ফল আসেনি।

বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিটুয়েন্টি রেকর্ড

বাংলাদেশ ও ওয়েষ্ট ইন্ডিজের মধ্যে ১২টি টিটুয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে যাতে বাংলাদেশ ৫ম্যাচে জয়ী হয়েছে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ ম্যাচে জয় পেয়েছে। এছাড়া ১টি টিটুয়েন্টি ম্যাচে ফল আসেনি।

লিখেছেন: প্রভাকর চৌধুরী