WHAT'S NEW?
Loading...

এই শীতে জাফলং

                                                                  


এখন শীতকাল। বাংলাদেশে ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। বাংলাদেশ  বৃষ্টিবহুল দেশ।প্রায় সারাবছরই এখানে বৃষ্টি হয়।ফলে এদেশে নির্ভেজাল  ভ্রমণের উপযুক্ত সময় শীত।তবে বর্ষাকালের ভ্রমণের আনন্দ শীতে পাবেন না।আর বর্ষাকালে নিরাপদ ভ্রমণের সুবিধাও দেশে দিনদিন বাড়ছে। এরসাথে শীতে ভ্রমণের জন্যও এখানে রয়েছে ব্যাপক সুবিধা। শীতকালে এদেশে ভ্রমণের জন্য এক চমৎকার স্থান সিলেটের জাফলং।ব্যস্তজীবনের পাশে প্রকৃতি ও জলরাশির সাথে একান্তে কিছু সময় কাটাতে চাইলে যেতে হবে জাফলং। উঁচু নিচু পাহাড় আর পাহাড়ি পিয়ান নদীর জলরাশি আপনাকে নিরাশ করবে না।পাহাড় ও নদীর এমন অপরূপ মিলন দেশের আর  খুব কম স্থানেই আছে।


জাফলং


জাফলং বাংলাদেশের অন্যতম দর্শনীয় এক প্রাকৃতিক পর্যটনস্পট। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত মিলে জাফলং হয়ে উঠেছে আরো সুন্দর।একে বলা হয় প্রকৃতির কন্যা।সবুজ পাহাড় আর বহমান পিয়ান নদী একে দিয়েছে অন্য এক সৌন্দর্য। জাফলংয়ের বড় সৌন্দর্য এর পথে পথে ছড়ানো পাহাড়, চাবাগান , মেঘালয়ের পাহাড়িদৃশ্য। জাফলং যাবার পথে এসবই আপনাকে আনন্দ দেবে।


স্থানপরিচিতি


জাফলং বাংলাদেশের সিলেট জেলার অন্তর্গত গোয়াইনঘাট উপজেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৬০কিমি দূরে জাফলংয়ের অবস্থান। সিলেট শহর থেকে জাফলং যেতে দেড় থেকে দুই ঘন্টা সময় লাগে।আর যাতায়াতের একমাত্র উপায় সড়কপথ।শীত ও বর্ষা দুই ঋতুতেই সড়কপথে জাফলং  যেতে পারবেন।প্রায় সবধরণের গাড়িতে জাফলং যাওয়া যাবে।


কি দেখবেন জাফলং



প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ে একান্তে কিছু সময় কাটাতে চাইলে এখনই উপযুক্ত সময়। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা ধরে অপরূপ প্রকৃতির সান্নিধ্যে যেতে চাইলে জাফলং এক চমৎকার উদাহরণ। জাফলংয়ের রাস্তাগুলো চওড়া ও সুন্দর। তাই ভ্রমণে ক্লান্ত হওয়ার চিন্তা নেই। জাফলং যাবারপথে সিলেট ক্যান্টনমেন্ট,শাহ পরানের মাজার, উঁচু পাহাড়ের ফাঁকে চাবাগান,লালাখাল, জাফলং-ডাউকি স্থল সীমান্ত, বিশাল সব হাওড় দেখতে পাবেন। জাফলং পৌঁছে দেখা পাবেন পিয়ান নদীর অপূর্ব জলরাশির। এছাড়া জিরো পয়েন্ট,ডাউকির ঝুলন্ত ব্রিজ আপনাকে আনন্দ দেবে।



কখন যাবেন জাফলং



জাফলং ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আনন্দ হচ্ছে এখানেসব ঋতুতেই ভ্রমণ করা যায়। ভালো সড়ক যোগাযোগ  ও পাহাড়বেষ্টিত হওয়ায় এই  স্থান যেকোন ঋতুতে ভ্রমণ করা যায়।তবে শীতে জাফলং ভ্রমণের আনন্দ কিছুটা ভিন্ন।বলা হয় জাফলং শীত ও বর্ষায় ভিন্ন ভিন্ন রূপ লাভ করে। তাই শীতে জাফলং ভ্রমণে  ভিন্ন কিছুই পাবেন।মাঝবর্ষায় জাফলংয়ের বড় এক অংশ বন্যায় ডুবে যায়। তাই সেসময় অনেক কিছু দেখা যাবেনা। তাই বর্ষার শুরুতে জাফলং ভ্রমণ করা ভালো।আর শীতের পুরোসময় জাফলং ভ্রমণ করা যায়।জাফলং যেতে চাইলে মে-জুন ভালো সময়।আর শীতে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত জাফলং ভ্রমণ করতে পারেন।

যেভাবে যাবেন


ভ্রমণের আগে যাতায়াত সম্পর্কে জানতে হয়। যেখানে যাবেন সেই স্থানের যোগাযোগব্যবস্থা জেনে তবেই ভ্রমণে যাওয়া উচিত। জাফলং সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত।আর দেশের যেকোন স্থান থেকে সিলেটে আসার জন্য সড়কযোগাযোগ, রেলযোগাযোগ ও বিমান রয়েছে।রাজধানী ঢাকা থেকে ইউনিক,হানিফ,শ্যামলী,এনা,মামুন,গ্ৰিনলাইনের বাসে সিলেট যেতে পারবেন। সকাল ৬টা থেকে  রাত ১২টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে সিলেটে যেতে এসব স্পেশাল বাস পাবেন।ভাড়া পড়বে প্রায় ৬০০থেকে ১৫০০টাকা। এছাড়া ঢাকার কমলাপুর থেকে প্রতিদিন সিলেটের উদ্দেশ্যে একাধিক ট্রেন ছেড়ে যায়।ঢাকা থেকে বিমানেও সিলেটে আসা যায় ।বিমানে ঢাকা থেকে সিলেট আসতে ৪৫ থেকে ৫০মিনিট সময় লাগে।বিমানে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে জনপ্রতি ভাড়া লাগবে  ৩ থেকে ৫হাজার টাকা।ঢাকা থেকে সিলেট পৌঁছে লোকাল বাস, প্রাইভেট কার, সিএনজি অটোরিকশা, লেগুনা ইত্যাদি  করে জাফলং যাওয়া যায়।আর ভ্রমণের উদ্দেশ্যে জাফলং গেলে রিজার্ভ গাড়ি নিয়ে যাওয়াই ভালো।


খাওয়া-দাওয়া


জাফলংয়ে খাওয়ার জন্য মাঝারি মানের রেস্টুরেন্ট পাবেন।তবে উন্নতমানের খাবার পেতে চাইলে সিলেট শহর থেকে খাবার কিনে নিতে হবে।এক্ষেএে সিলেটে বেশকিছু ভালোমানের খাবার রেষ্টুরেন্ট রয়েছে যেখানে আপনি প্রায় সবধরণের খাবার পাবেন। এছাড়া ফুডপান্ডার মত কিছু অনলাইন ফুডসরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও সিলেটে রয়েছে।


হোটেল মোটেল



সিলেট শহরে এখন বেশকিছু আন্তর্জাতিক মানের হোটেল রয়েছে। সেইসাথে মাঝারি মানের হোটেলগুলোতে থাকার সুব্যবস্থা আছে। অনলাইনে সার্স দিয়ে দেখে নিতে পারেন।আর জাফলং ভ্রমণের আগে এসবকিছু আগাম বুক করে রাখা উচিত।কারণ জাফলংয়ে থাকার জন্য ভালো হোটেল পাবেন না। সব ভালো হোটেলই  সিলেট শহরে অবস্থিত।শীতে সিলেটে প্রচুর পর্যটক আসেন তাই আগাম বুকিং না করলে ভালো হোটেল পাওয়া যাবেনা।

লিখেছেন: প্রভাকর চৌধুরী