WHAT'S NEW?
Loading...

নিউজিল্যান্ড ,এক আদর্শ ক্রিকেট টিমের প্রতিচ্ছবি

                                                                


ক্রিকেটপ্লেয়িং দেশগুলোর মধ্যে নিউজিল্যান্ড অনেকটা নিরব বিস্ময়ের মত।যতবড় টুর্নামেন্ট হোক কিংবা বিশ্বকাপ হোক নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে আলোচনা কমই হয়।অথচ নিউজিল্যান্ড টিম ক্রিকেটে এক আলাদা সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত।হোক বিশ্বকাপ ফাইনালে কিংবা সেমিফাইনালে হারার জন্য বিখ্যাত তবু ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে নিউজিল্যান্ডের খেলা দেখার জন্য একধরণের বিশেষ আগ্ৰহ থাকে।এর পেছনে বহুকারণ আছে।প্রথমত নিউজিল্যান্ড সবসময় টিম হিসেবে খেলে। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিং বিশ্বের সেরা। উপরন্তু কিউই ক্রিকেটের অন্য এক গুণ সর্বদা লড়াকুভাব দলটির ভেতরে কাজ করে। প্রতিভাধর অলরাউন্ডারদের যেন এক নিরব খনি রয়েছে ক্রিকেটপ্লেয়িং এই দেশটিতে । নিউজিল্যান্ডের এতো গুণের পেছনে অন্যতম একটি কারণ হলো দলটি সবসময় অলরাউন্ডারনির্ভর।এবং লক্ষ্যণীয় সত্য হলো কিউই ক্রিকেটারদের ফিটনেস সবসময়ই এক অনুকরণীয় বৈশিষ্ট্য। নিউজিল্যান্ডের প্লেয়াররা দুর্দান্ত অ্যাথলেট হিসেবে বিশ্বে সমাদৃত।নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের আরো কিছু গল্প আসুন জেনে নিই।

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারদের দল

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের এক চিরন্তন বৈশিষ্ট্য হলো দলটিতে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারদের ছড়াছড়ি। সেই রিচার্ড হ্যাডলি থেকে কোরি এন্ডারসন পর্যন্ত বহু বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার পেয়েছে নিউজিল্যান্ড।ক্রিস কেয়ানর্সের কথা নিশ্চয় সবার মনে থাকবে।কেয়ানর্সের ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং সবকালের সব অলরাউন্ডারের এক অনুকরণীয় বিষয়।কেয়ানর্সের মত ফিনিশার ক্রিকেটে খুব বেশি নেই।কেয়ানর্সের পরে ক্রিস হ্যারিস, কোরি অ্যান্ডারসন,ডেনিয়েল ভেট্টরি,ক্রেইগ ম্যাকমিলান,কাইল মিলস কিউই ক্রিকেটের একেক বিস্ময়কর আবিষ্কার।লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো নিউজিল্যান্ড সর্বদা অলরাউন্ডারনির্ভর দল।

চৌকস ক্রিকেট ক্যাপ্টেনদের দেশ

আমরা নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটে বেশকজন চৌকস অধিনায়কের সন্ধান পাই। স্টিফেন ফ্লেমিং,ব্রেন্ডন ম্যাককালাম,কেন উইলিয়ামস নিউজিল্যান্ডের তিন সফল অধিনায়ক।এরা কোল ও ক্যালকুলেটেড ক্যাপ্টেনসির জন্য বিখ্যাত।ক্রিকেটক্যাপ্টেনসির দিক থেকে সবচেয়ে সফল অষ্ট্রেলিয়া এবং তারপর ভারতের কথা বলতে হয়।তবে চৌকস অধিনায়কত্বের জন্য অবশ্যই নিউজিল্যান্ডকে হিসেবে রাখতে হবে। গত ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে খুব কম লোকই নিউজিল্যান্ডকে হিসেবে ধরেছে কিন্তু ফাইনাল ছাড়া বাকি সবই প্রায় কিউইদের দখলে ছিল। দুর্দান্ত গেমপ্ল্যান দিয়ে লোস্কোরিং ম্যাচকে কিভাবে সহজে নিজেদের মুঠোয় নিতে হয় তা গত বিশ্বকাপে বেশ ভালো ভাবেই দেখিয়েছে দলটি। অর্থাৎ নিউজিল্যান্ডের খেলায় সবসময় গেমপ্ল্যান ও পেশাদারিত্ব দেখা যায়।

এক লড়াকু টিমের প্রতিচ্ছবি

নিউজিল্যান্ড যদিও সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ার জন্য বিখ্যাত। এমনকি দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরে গিয়ে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে দলটি। কিন্তু একটি বিষয় খুবই লক্ষ্যণীয় যে নিউজিল্যান্ড সবসময় এক লড়াকু টিম। শুধু ব্যাটিং বোলিং নয় ফিল্ডিংয়েও অসাধারণ পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের জন্য বিখ্যাত এই দলটি। প্রচলিত আছে যে নিউজিল্যান্ড শুধু ফিল্ডিং দিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে।কিউই ক্রিকেটের মূলশক্তি হচ্ছে ঠান্ডা মাথায়  লড়াই করার অসাধারণ দক্ষতা। ক্রিকেটের বিভিন্ন বৈশ্বিক আসরে সর্বাধিক সেমিফাইনাল খেলুড়ে দেশের তালিকায় নিউজিল্যান্ডের নাম বেশ উপরের দিকে উচ্চারিত হয়।যদিও বৈশ্বিক আসরগুলোতে ফাইনাল জেতার হার দলটির খুবই কম। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল মিলিয়ে অন্তত ১০ বার চূড়ান্ত পর্বে খেলেছে দলটি। নিউজিল্যান্ডের বড় গুণ দলটি টিম হিসেবে খেলে। দক্ষিণ আফ্রিকা,ওয়েষ্ঠইন্ডিজের মত দলও টিম হিসেবে খেলে।তবে নিউজিল্যান্ডের প্রতিটি প্লেয়ার পেশাদারিত্বের জন্য বিখ্যাত।উদাহরণ হিসেবে ২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপের কথা বলা যায়।১৯৯৬বিশ্বকাপে ওয়েষ্ঠইন্ডিজের বিপক্ষে এক ম্যাচে পুরো নিউজিল্যান্ড টিম ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। 


দারুণ সব প্রতিভার ছড়াছড়ি

একটি বিষয় স্পষ্ট আর তাহলো নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে কখনো প্রতিভার সংকট হয়নি।এই যেমন গত বিশ্বকাপে বোল্ট,উইলিয়ামস, ফার্গুসনের নৈপুণ্য অনেকের মনে পড়বে ।ব্রেন্ডন ম্যাককালাম,মুনরো,বন্ড, আষ্টল, কেয়ার্নস,ফ্লেমিং,ভেট্টরি,বোল্ট,গাফটিলের মত প্রতিভা সবসময় নিউজিল্যান্ড দলে দেখা গেছে। এবং বিগত কয়েক দশকের ক্রিকেটইতিহাসে নিউজিল্যান্ডের কোন না কোন তারকা ক্রিকেটারকে পাওয়া যায়।ক্রিস কেয়ার্নস ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ও ফিনিশার।ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ,গাফটিলের মত বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ক্রিকেটে কালেভদ্রে দেখা যায়। এছাড়া নাথাল আষ্টল,ক্রিস হ্যারিস,ভেট্টরির,কোরি এন্ডারসনের মত প্রতিভা ক্রিকেটে খুব হাতেগোনা।


দারুণ ফিল্ডিংয়ের জন্য বিখ্যাত

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের বড় এক শক্তির জায়গা নিঃসন্দেহে তাদের ফিল্ডিং। নিউজিল্যান্ডের গাফটিল,ভেট্টরি,নাথান ম্যাককালাম,রস টেলর, ভিনসেন্ট প্রত্যেকেই ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা ফিল্ডারদের অন্যতম।গাফটিলের দুর্দান্ত সব ডাইভ ক্রিকেটের এক আলাদা গল্প।ক্রিকেটে ফিল্ডিংয়ের গুরুত্ব কত বেশি তা নিউজিল্যান্ডের খেলা দেখলে সহজে অনুধাবন করা যায়।


এটাকিং কিন্তু উপভোগ্য ক্রিকেট

খেয়াল করলে দেখা যায় নিউজিল্যান্ড সবসময় এটাকিং ক্রিকেট খেলতে অভ্যস্ত।এবং দলটি ব্যাটিং, বোলিং,ফিল্ডিং তিন ডিপার্টমেন্টেই সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকে।এসবই নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের এক অন্যরকম সৌন্দর্য।ক্রিকেটে এটাকিং এটিচিউডের সাথে একে উপভোগ্য করে তুলে দলটির চমৎকার পেশাদারিত্ব।আর এটাকিং ক্রিকেটের সাথে উপভোগ্য পেশাদারিত্বের ফলে নিউজিল্যান্ড বারবার সাফল্য পেয়েছে।এসবই ক্রিস কেয়ার্নস থেকে ফার্গুসন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের সৌন্দর্যের স্মারক।


লিখেছেন: প্রভাকর চৌধুরী